মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের দিয়াবাড়ি বাজারে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রি হচ্ছে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
দজানা গেছে, স্থানীয় ডিলার মোঃ কামরুল ইসলাম একই গোডাউনে কীটনাশক ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল মজুদ রেখেছেন। ফলে এই বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থেকে যেকোনো সময় চালে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়তে পারে— যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সংরক্ষণে নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আলাদা সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও ডিলার কামরুল ইসলাম তা উপেক্ষা করে আসছেন।
স্থানীয় ভোক্তারা অভিযোগ করে জানান, চাল কিনতে এসে তাঁরা গুদামে তীব্র কীটনাশকের গন্ধ পান। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের তদারকি একেবারেই নেই।
নিয়ম অনুযায়ী, চাল বিতরণের সময় একজন ট্যাগ অফিসার বা তদারককারী কর্মকর্তার উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঘটনাস্থলে এমন কেউ ছিলেন না।
ডিলার মোঃ কামরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন,
“ট্যাগ অফিসার সকালে এসেছিলেন, পরে চলে গেছেন।”
তবে ট্যাগ অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন,
“আজ চাল বিতরণের বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। ডিলার নিজেই জানিয়েছিলেন যে, আরও দুই দিন পরে চাল বিতরণ করবেন।”
চালা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল গফ্ফার “ট্যাগ অফিসার ছাড়া চাল বিতরণ করা নিয়মবহির্ভূত। আর কীটনাশক ও চাল একই গোডাউনে রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি দ্রুত এই ডিলারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রাবেয়া সুলতানা বলেন,
“বিষয়টি আমি জানতাম না। এখনই ডিলারকে নির্দেশ দিচ্ছি যেন কীটনাশক সরিয়ে ফেলেন। ট্যাগ অফিসার ছাড়া চাল বিতরণের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমরা দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে এমন অব্যবস্থাপনা প্রশাসনের নজরে আসায় ভোক্তারা আশা করছেন— দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে
রিপন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার: 









