০৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
শিবিরের উসকানিমূলক ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে তিতুমীর কলেজে রণক্ষেত্র

শিবিরের উসকানিমূলক ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে তিতুমীর কলেজে রণক্ষেত্র

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতির সামনে শিবিরের ব্যানার টাঙানোর উসকানিমূলক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাতে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রবিবার সকাল পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে শিবিরের একদল কর্মী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রাফিতির ওপর ব্যানার লাগাতে গেলে তারা বাধা দেন। এ সময় সাংবাদিক সমিতির সাবেক এক নেতা—যিনি শিবির কর্মী হিসেবেও পরিচিত—জোরপূর্বক ব্যানার লাগাতে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। বাধা পেয়ে ক্ষিপ্ত শিবিরকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করলে তারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সহায়তা চান। কিছুক্ষণের মধ্যে ছাত্রদল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শিবিরকর্মীরা তাদের ওপরও হামলা চালায়, পরে পাল্টা প্রতিরোধে সংঘর্ষ দফায় দফায় ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থীরা বলেন, কলেজ প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত খালি স্থান থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের গ্রাফিতির সামনে ব্যানার টাঙানোর চেষ্টা ইচ্ছাকৃত উসকানি ছাড়া কিছু নয়। একজন শিক্ষার্থী ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সমস্যা কোথায়?’—এ কথা বলতেই তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বলেন, “রাত ১২টার পর ব্যানার লাগাতে আসার উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে আশ্রয় চাইলে আমরা পাশে দাঁড়াই—এতে ছাত্রদলের ওপর দায় চাপানোর কোনো সুযোগ নেই।” তার দাবি, সাংবাদিক সমিতির ভেতর শিবির ও ছাত্রলীগপন্থী কিছু সদস্য পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে ছাত্রদলকে জড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত।

অন্যদিকে তিতুমীর কলেজ শিবির সভাপতি খাদেমুল ইসলাম সিয়াম দাবি করেন, নবীনবরণ উপলক্ষে ব্যানার টাঙাতে গেলে ছাত্রদল সেগুলো ছিঁড়ে ফেলে, তাই রাতে পুনরায় লাগাতে গেলে বাধার মুখে পড়ে তাদের ৬–৭ জন আহত হয়েছে। তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রাফিতির সামনে ব্যানার লাগানোর যৌক্তিকতা বা গভীর রাতে এ কর্মসূচি গ্রহণের কারণ সম্পর্কে তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

ঘটনার বিষয়ে বনানী থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের বেশিরভাগই শিবির ও ছাত্রদলের কর্মী বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

শিবিরের উসকানিমূলক ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে তিতুমীর কলেজে রণক্ষেত্র

শিবিরের উসকানিমূলক ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে তিতুমীর কলেজে রণক্ষেত্র

Update Time : ০১:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতির সামনে শিবিরের ব্যানার টাঙানোর উসকানিমূলক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাতে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রবিবার সকাল পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে শিবিরের একদল কর্মী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রাফিতির ওপর ব্যানার লাগাতে গেলে তারা বাধা দেন। এ সময় সাংবাদিক সমিতির সাবেক এক নেতা—যিনি শিবির কর্মী হিসেবেও পরিচিত—জোরপূর্বক ব্যানার লাগাতে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। বাধা পেয়ে ক্ষিপ্ত শিবিরকর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করলে তারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সহায়তা চান। কিছুক্ষণের মধ্যে ছাত্রদল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শিবিরকর্মীরা তাদের ওপরও হামলা চালায়, পরে পাল্টা প্রতিরোধে সংঘর্ষ দফায় দফায় ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থীরা বলেন, কলেজ প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত খালি স্থান থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের গ্রাফিতির সামনে ব্যানার টাঙানোর চেষ্টা ইচ্ছাকৃত উসকানি ছাড়া কিছু নয়। একজন শিক্ষার্থী ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সমস্যা কোথায়?’—এ কথা বলতেই তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন বলেন, “রাত ১২টার পর ব্যানার লাগাতে আসার উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে আশ্রয় চাইলে আমরা পাশে দাঁড়াই—এতে ছাত্রদলের ওপর দায় চাপানোর কোনো সুযোগ নেই।” তার দাবি, সাংবাদিক সমিতির ভেতর শিবির ও ছাত্রলীগপন্থী কিছু সদস্য পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে ছাত্রদলকে জড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত।

অন্যদিকে তিতুমীর কলেজ শিবির সভাপতি খাদেমুল ইসলাম সিয়াম দাবি করেন, নবীনবরণ উপলক্ষে ব্যানার টাঙাতে গেলে ছাত্রদল সেগুলো ছিঁড়ে ফেলে, তাই রাতে পুনরায় লাগাতে গেলে বাধার মুখে পড়ে তাদের ৬–৭ জন আহত হয়েছে। তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রাফিতির সামনে ব্যানার লাগানোর যৌক্তিকতা বা গভীর রাতে এ কর্মসূচি গ্রহণের কারণ সম্পর্কে তারা স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন।

ঘটনার বিষয়ে বনানী থানার ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের বেশিরভাগই শিবির ও ছাত্রদলের কর্মী বলে তিনি নিশ্চিত করেন।