ঢাকার ধামরাই উপজেলার ০৩ নং বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে সরকারি চাল বিক্রি ও বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) সরেজমিনে বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তা অফিসের বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ এসব চাল মূলত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পরিষদের সচিব মোঃ মুশফিকুর রহমান ও চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আওয়াল খান জন্ম নিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, সামাজিক ভাতা সংক্রান্ত কাজসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে আমাদেরকে। এতে ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ সেবা নিতে আসা জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নাম না বলা শর্তে একজন জানান, “আমি ইউনিয়ন পরিষদের জনি নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮০০ টাকার বিনিময়ে এই চাল কিনেছি।” তার এই বক্তব্যে ইউনিয়ন পরিষদকে ঘিরে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাদ্য সহায়তা যদি এভাবে কালোবাজারে বিক্রি হয়, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হবেন এবং সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ মুশফিকুর রহমান বলেন, “সরকারি চাল বাইরে বিক্রি করা যায়।”
সচিবের এমন বক্তব্য স্থানীয়দের মাঝে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা এভাবে বিক্রি হওয়া সরকারের মানবিক কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আওয়াল খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে কল কেটে দেন।
নান্নু মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার : 














