মানিকগঞ্জে মাদ্রাসার ছাত্রী আতিকা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন নাঈমকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছুটা বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে—একদিকে আটক হওয়ার কথা বলা হলেও, অন্যদিকে নিশ্চিতভাবে এখনও গ্রেপ্তার হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
১৭ ই এপ্রিল (শুক্রবার) রাতে তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপিটুনিতে নিহত তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে । এখনও স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামের দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার করা হয় এবং মাইকিং করে এলাকাজুড়ে খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। পরে এক কিশোরের তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণের দুল ও গলার চেইন লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্দেহের ভিত্তিতে প্রতিবেশী নাঈমকে দায়ী করে উত্তেজিত জনতা তার স্বজনদের ধরে গণপিটুনি দেয়।
এতে নাঈমের পিতা পান্নু মিয়া (৪৫) ও চাচা ফজলু (২৮) নিহত হন। এছাড়া পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল (২০) গুরুতর আহত হন। আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নাঈম পলাতক ছিল। অবশেষে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলমান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।
মোহাম্মদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার। 













