০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

জাতীয় স্মৃতি সৌধের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে গাছ নিধনের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • ৪৫ Time View

নান্নু মিয়া

জাতীয় স্মৃতি সৌধ–এর অভ্যন্তর থেকে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে বাইরে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের হাতে ধরা পড়েছে একটি চক্র। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশেই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতরের গাছ গোপনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় স্মৃতি সৌধের ভেতর থেকে কাটা গাছ একটি ভ্যানে করে বাইরে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা গাছ বিক্রি ও পরিবহনের বৈধ অনুমতি, নিলাম সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন দেখতে চাইলে ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “এটা স্যার জানেন।”
তবে এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন–এর কাছে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।”
অন্যদিকে গাছ বহনের জন্য আসা ভ্যানচালক সাংবাদিকদের জানান, তাকে একটি স-মিলে গাছ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডেকে আনা হয়েছে। এতে পুরো ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—জাতীয় স্মৃতি সৌধের মতো রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ স্থানের সরকারি গাছ কিভাবে কাটা হলো, কে বিক্রির অনুমতি দিল, আর কোন প্রক্রিয়ায় তা বাইরে নেওয়া হচ্ছিল? ঘটনাস্থলে কোনো বৈধ নিলাম কাগজ, পরিবহন অনুমতি বা সরকারি আদেশ দেখাতে না পারায় পুরো বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সরকারি সম্পদ বিক্রি বা অপসারণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিলাম প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক। যথাযথ অনুমতি ছাড়া সরকারি গাছ কাটা, বিক্রি কিংবা পাচারের চেষ্টা সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাটুরিয়ায় এতিম শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক এক

জাতীয় স্মৃতি সৌধের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে গাছ নিধনের অভিযোগ

Update Time : ১১:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নান্নু মিয়া

জাতীয় স্মৃতি সৌধ–এর অভ্যন্তর থেকে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে বাইরে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের হাতে ধরা পড়েছে একটি চক্র। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশেই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ভেতরের গাছ গোপনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাতীয় স্মৃতি সৌধের ভেতর থেকে কাটা গাছ একটি ভ্যানে করে বাইরে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা গাছ বিক্রি ও পরিবহনের বৈধ অনুমতি, নিলাম সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন দেখতে চাইলে ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “এটা স্যার জানেন।”
তবে এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন–এর কাছে জানতে চাইলে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।”
অন্যদিকে গাছ বহনের জন্য আসা ভ্যানচালক সাংবাদিকদের জানান, তাকে একটি স-মিলে গাছ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডেকে আনা হয়েছে। এতে পুরো ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—জাতীয় স্মৃতি সৌধের মতো রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ স্থানের সরকারি গাছ কিভাবে কাটা হলো, কে বিক্রির অনুমতি দিল, আর কোন প্রক্রিয়ায় তা বাইরে নেওয়া হচ্ছিল? ঘটনাস্থলে কোনো বৈধ নিলাম কাগজ, পরিবহন অনুমতি বা সরকারি আদেশ দেখাতে না পারায় পুরো বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সরকারি সম্পদ বিক্রি বা অপসারণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিলাম প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক। যথাযথ অনুমতি ছাড়া সরকারি গাছ কাটা, বিক্রি কিংবা পাচারের চেষ্টা সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা।