০৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মানিকগঞ্জে ডাক্তারবিহীন চক্ষু চিকিৎসা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৩৮৪ Time View

স্টাফ রিপোর্টার জাহিদ মোল্লা :

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার উথুলী ইউনিয়নের কাতরাসিন গ্রামে অবৈধভাবে পরিচালিত চক্ষু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, প্যারামেডিক এবং মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে চলছে রোগী দেখার কার্যক্রম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে স্থাপিত এই হাসপাতালটিতে বর্তমানে কোনো যোগ্য ডাক্তার নেই। তবুও প্রতিদিন শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৯টায় ১৫০-২০০ টাকার টিকিট কেটে অপেক্ষায় থাকা রোগীরা দুপুরের পর চিকিৎসা পান। তবে চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন প্যারামেডিক এনামুল হক, যিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, “আমার চিকিৎসা দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। আজ ডাক্তার না থাকায় আমি চিকিৎসা দিচ্ছি।”
এছাড়াও বিএ পাস সাকিলা সুলতানা কম্পিউটারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করেন এবং রোগীদের চশমা ও ওষুধ কিনতে বাধ্য করেন। রোগীরা অভিযোগ করেছেন, চশমা ও ওষুধ অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা এবং নজরদারির অভাবে এই অনিয়মের চক্রটি অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালের লাইসেন্স ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত নবায়ন করা হলেও পরবর্তী দুই অর্থবছরে তা নবায়ন করা হয়নি। তাছাড়া অনুমোদনহীনভাবে ১০ বেডের হাসপাতালটি ৩০ বেডে রূপান্তর করা হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে মাধবী ঘোষ, আবু বক্কর ও হাসনা বেগম বলেন, “এখানে ডাক্তার আছে কিনা জানি না। যা লিখে দেয়, আমরা সেই ওষুধই খাই।”এভাবে বছরের পর বছর রোগীদের সাথে প্রতারণা করে হাসপাতালটি বাণিজ্য করছে প্রতিদিন লাখ টাকা।

হাসপাতালের ইনচার্জ লোকমান হোসেন বলেন, “আমরা সিভিল সার্জনের সাথে আলোচনা করেছি। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে রোগী দেখা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তবে সিভিল সার্জন বিষয়টি তদন্ত করবেন।”

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মকছেদুল মোমিন জানান, “কাতরাসিন চক্ষু হাসপাতালের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

মানিকগঞ্জে ডাক্তারবিহীন চক্ষু চিকিৎসা

Update Time : ১০:৩২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার জাহিদ মোল্লা :

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার উথুলী ইউনিয়নের কাতরাসিন গ্রামে অবৈধভাবে পরিচালিত চক্ষু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, প্যারামেডিক এবং মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে চলছে রোগী দেখার কার্যক্রম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে স্থাপিত এই হাসপাতালটিতে বর্তমানে কোনো যোগ্য ডাক্তার নেই। তবুও প্রতিদিন শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৯টায় ১৫০-২০০ টাকার টিকিট কেটে অপেক্ষায় থাকা রোগীরা দুপুরের পর চিকিৎসা পান। তবে চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন প্যারামেডিক এনামুল হক, যিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, “আমার চিকিৎসা দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। আজ ডাক্তার না থাকায় আমি চিকিৎসা দিচ্ছি।”
এছাড়াও বিএ পাস সাকিলা সুলতানা কম্পিউটারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করেন এবং রোগীদের চশমা ও ওষুধ কিনতে বাধ্য করেন। রোগীরা অভিযোগ করেছেন, চশমা ও ওষুধ অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা এবং নজরদারির অভাবে এই অনিয়মের চক্রটি অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালের লাইসেন্স ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত নবায়ন করা হলেও পরবর্তী দুই অর্থবছরে তা নবায়ন করা হয়নি। তাছাড়া অনুমোদনহীনভাবে ১০ বেডের হাসপাতালটি ৩০ বেডে রূপান্তর করা হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে মাধবী ঘোষ, আবু বক্কর ও হাসনা বেগম বলেন, “এখানে ডাক্তার আছে কিনা জানি না। যা লিখে দেয়, আমরা সেই ওষুধই খাই।”এভাবে বছরের পর বছর রোগীদের সাথে প্রতারণা করে হাসপাতালটি বাণিজ্য করছে প্রতিদিন লাখ টাকা।

হাসপাতালের ইনচার্জ লোকমান হোসেন বলেন, “আমরা সিভিল সার্জনের সাথে আলোচনা করেছি। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে রোগী দেখা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। তবে সিভিল সার্জন বিষয়টি তদন্ত করবেন।”

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মকছেদুল মোমিন জানান, “কাতরাসিন চক্ষু হাসপাতালের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”