১১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সনদ নেই, তবুও সর্ব রোগের চিকিৎসক তিনি

  • মো: মামুন মিয়া
  • Update Time : ১০:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২৬২ Time View


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ হরিরামপুর উপজেলার বলড়া বাজারে চিকিৎসা সনদ ছাড়াই  সর্ব রোগের মস্ত বড় ডাক্তার এখন জুয়েল রানা ওরফে বাবু। এমবিবিএস পাস না করেই সে সকল রোগের চিকিৎসক দেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বলড়া বাজারে একটি ওষুধের দোকানে বসে ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এতে সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। তার ভুল চিকিৎসা, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধের প্রেসক্রিপশনের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। তিনি নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ শব্দ লাগিয়ে দেদারছে অপচিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসক সংকট থাকায় এসব ভুয়া চিকিৎসকের ওষুধ খেয়ে রোগমুক্তি তো দূরের কথা, নানান জটিলতায় ভুগছেন হাজারো রোগী। তাদের ভুল চিকিৎসার কারণে রোগী মারা যাওয়া মতো ঘটনাও ঘটছে। আবার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের যাচ্ছেতাই ব্যবহারের কারণে সাধারণ রোগকে আরো জটিল থেকে জটিলতর পর্যায়ে নিয়ে নিরাময়-অসম্ভব করে ফেলছেন। নিজের চেম্বার খোলার পাশাপাশি এই চিকিৎসক ওষুধও বিক্রি করছেন। সীলে নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ শব্দ লাগিয়ে দেদারছে অপচিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরদারি না থাকায় এসব ব্যবসা ঢের গজিয়ে ওঠারও অভিযোগ করেন অনেক স্থানীয় জনগণ।
একাধিক ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পল্লী চিকিৎসকদের জন্য আমরা টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের গিফট দেই। এজন্যই তারা এন্টিবায়োটিক ঔষধও লিখে দেন রোগীদের।
এগার মাস বয়সের শিশু, সোহেলের মা সহ আরো অনেক রোগীর সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমরা তো জানি সে পাশ করা ডাক্তার। তিনি ডাক্তার না হয়ে আমাদের সাথে প্রতারনা করছে, আগে জানলে এখানে চিকিৎসা নিতে আসতাম না। এই সব ভুয়া ডাক্তারের শাস্তি হওয়া দরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক জুয়েল রানা ওরফে বাবু বলেন, আমি চার বছরের কোর্স করার পর সব নিয়ম মেনেই রোগী দেখি। তবে আমার নামের আগে যদি ডাক্তার পদবী না লিখা যায় তাহলে আমি আর ডাক্তার পদবী ব্যবহার করবো না।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মকছেদুল মোমিন বলেন, এমবিএস ও বিডিএস ছাড়া কোন ব্যক্তি ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবে না, যদি কেউ করে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

সনদ নেই, তবুও সর্ব রোগের চিকিৎসক তিনি

Update Time : ১০:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪


মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ হরিরামপুর উপজেলার বলড়া বাজারে চিকিৎসা সনদ ছাড়াই  সর্ব রোগের মস্ত বড় ডাক্তার এখন জুয়েল রানা ওরফে বাবু। এমবিবিএস পাস না করেই সে সকল রোগের চিকিৎসক দেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বলড়া বাজারে একটি ওষুধের দোকানে বসে ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এতে সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। তার ভুল চিকিৎসা, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধের প্রেসক্রিপশনের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। তিনি নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ শব্দ লাগিয়ে দেদারছে অপচিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসক সংকট থাকায় এসব ভুয়া চিকিৎসকের ওষুধ খেয়ে রোগমুক্তি তো দূরের কথা, নানান জটিলতায় ভুগছেন হাজারো রোগী। তাদের ভুল চিকিৎসার কারণে রোগী মারা যাওয়া মতো ঘটনাও ঘটছে। আবার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের যাচ্ছেতাই ব্যবহারের কারণে সাধারণ রোগকে আরো জটিল থেকে জটিলতর পর্যায়ে নিয়ে নিরাময়-অসম্ভব করে ফেলছেন। নিজের চেম্বার খোলার পাশাপাশি এই চিকিৎসক ওষুধও বিক্রি করছেন। সীলে নিজের নামের আগে ‘ডাক্তার’ শব্দ লাগিয়ে দেদারছে অপচিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরদারি না থাকায় এসব ব্যবসা ঢের গজিয়ে ওঠারও অভিযোগ করেন অনেক স্থানীয় জনগণ।
একাধিক ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পল্লী চিকিৎসকদের জন্য আমরা টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের গিফট দেই। এজন্যই তারা এন্টিবায়োটিক ঔষধও লিখে দেন রোগীদের।
এগার মাস বয়সের শিশু, সোহেলের মা সহ আরো অনেক রোগীর সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমরা তো জানি সে পাশ করা ডাক্তার। তিনি ডাক্তার না হয়ে আমাদের সাথে প্রতারনা করছে, আগে জানলে এখানে চিকিৎসা নিতে আসতাম না। এই সব ভুয়া ডাক্তারের শাস্তি হওয়া দরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক জুয়েল রানা ওরফে বাবু বলেন, আমি চার বছরের কোর্স করার পর সব নিয়ম মেনেই রোগী দেখি। তবে আমার নামের আগে যদি ডাক্তার পদবী না লিখা যায় তাহলে আমি আর ডাক্তার পদবী ব্যবহার করবো না।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মকছেদুল মোমিন বলেন, এমবিএস ও বিডিএস ছাড়া কোন ব্যক্তি ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবে না, যদি কেউ করে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।