নিজস্ব প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার রানাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের পরিবর্তে, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রহিমা আক্তারের দায়িত্ব পালনে অনিয়ম স্পষ্ট। তিনি শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পোশাক পরতে উৎসাহ দেন না এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নির্দিষ্ট একটি গাইড বই কেনার জন্য চাপ দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, “আমাদের স্যার-ম্যাডামরা বলেছেন, সব গাইডের চেয়ে অনুপম গাইড ভালো, অন্য গাইডে ভুল থাকে। তাই আমাদের ওই গাইড কিনতে বলা হয়েছে।” এতে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক ধরনের বাণিজ্যিকীকরণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকরাও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কথা স্বীকার করেছেন।
একজন অভিভাবক জানান, “আমরা সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠাই, কিন্তু শিক্ষকরা সময়মতো ক্লাস নেন না। ফলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। যদি এমন চলতে থাকে, তাহলে আমাদের কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করানোর চিন্তা করতে হবে।”
বিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সহকারী শিক্ষিকা রুমানা আক্তার সাংবাদিকদের পেশা নিয়ে কটূক্তি করেন এবং তথ্য সংগ্রহের অনুমতি রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা রহিমা আক্তার বলেন, “এসব বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। প্রয়োজনে হাবিবুল্লাহ স্যারের সঙ্গে কথা বলুন। আমি সবসময় ব্যস্ত থাকি।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, “আমি এই বিষয় সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। এখন বিষয়টি জানলাম, এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা যায়।
Reporter Name 















