মামুন মিয়া, মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কে ইটবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় চাঁন মিয়া (৩২) নামের এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৪) বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করে ও ট্রাকের চালক মামুন হোসেনকে আটক করে। লাশ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে নিহত চাঁন মিয়ার বড় ভাই হাসমতের অনুরোধে লাশের পোষ্ট মর্টেম না করে মেডিকেল সনদ নেয়া হয়। এরপর লাশটি থানায় নেয়া হয়।
নিহত চাঁন মিয়া সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের চর গোস্তা গ্রামের মৃত শুকর আলীর ছেলে। সাত-আট বছর আগে তার বাবা-মা মারা যান। একমাত্র বড় ভাই হাসমতের সঙ্গে বনিবনা না থাকায় তারা দু’জন দুই গ্রামে বাস করতেন। বড় ভাই হাসমত বাস করেন পুটাইল ইউনিয়নের চান্দোরা গ্রামে আর নিহত চাঁন মিয়া বাস করতেন চরগোস্তা গ্রামে।
সন্ধা সাড়ে ৬টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানার মূল ভবনের ডান পাশে একটি ভ্যানের উপর নিহত চাঁন মিয়ার লাশ রাখা হয়েছে। থানার করিডোরের ভিতরে আনাগোনা করছেন ২০ থেকে ৩০ জন লোক। গোল ঘরের সামনে রাখা হয়েছে পাশাপাশি দুটি ট্রাক, যার একটি ইটবোঝাই। ইটবোঝাই এই ট্রাকের (ঢাকা মেট্টো-ট-২২-৫৬৯৮) চাপায়ই নিহত হন চাঁন মিয়া। আর থানার ভিতরে হাজত খানায় আটক করে রাখা হয়েছে ট্রাক চালক মামুন হোসেনকে।
থানার করিডোরে আনাগোনা করা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনাটি আপস-মিমাংসা করা হয়েছে। আপসনামায় স্বাক্ষর করার পর জব্দ গাড়ি ও চালক মামুন হোসেনকে ছেড়ে দেয়া হবে। পরে সন্ধা সোয়া ৭টার দিকে জব্দ ট্রাক ও চালক মামুন হোসেনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
সূত্র জানায়, থানায় লাশ রেখে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আপস-মিমাংসা করা হয়। তবে আইন অনুযায়ী এভাবে আপস-মিমাংসার কোন সুযোগ নেই।
দীর্ঘদিন হাইওয়ে থানায় অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় পোষ্ট মর্টেম না করলেও সমস্যা নেই। তবে যেহেতু দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও ট্রাকের চালক আটক রয়েছে, সেহেতু মামলা না করে ছাড়ার কোন উপায় নেই। নিহতের পক্ষে কোন বাদী না থাকলেও পুলিশ বাদী হয়ে অপমৃত্যুর মামলা করতে পারে। এক্ষেত্রে যদি মামলা না করে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দিতে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে সরকার। ট্রাস্টি বোর্ড থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে পাঁচ লাখ, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানি হলে তিন লাখ টাকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা করা হবে।
এজন্য প্রতি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি, বিআরটিএ’র সহকারি পরিচালককে সদস্য সচিব, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে প্রতি মাসে সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশ দেয়া হয়।
জানতে চাইলে বিআরটিএ’র পরিদর্শক মো. কাফিউল হাসান মৃধা বলেন, সড়ক দুঘটনায় হতাহতদের বিষয়ে আমরা পুলিশের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে থাকি। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকেও তথ্য নেয়া হয়। যেহেতু নিহত চাঁন মিয়ার বিষয়ে মেডিকেল সনদ নেয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে ট্রাক ও ট্রাক চালককে ছেড়ে দেয়া উচিত হয়নি। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করা উচিত ছিল।
এদিকে শাহীন তারেক নামে এক সাংবাদিক এই প্রতিবেদককে কল করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার গাড়িটি ছিল আমার ভাগিনার। যে মারা গেছে সে কানে শুনতো না। প্রসেসিং করেই নিয়ে আসছি।
এ বিষয়ে জানতে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম আমান উল্লাহ্কে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Reporter Name 















