০৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে মানিকগঞ্জ–১ আসনে কড়াকড়ি নজরদারির দাবি 

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯৮ Time View

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ–১ আসনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে। বহিরাগত ব্যক্তি ও দলীয় কর্মী প্রবেশের সম্ভাবনা এবং সাংবাদিক পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার অপব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোলড়া এলাকার একটি খাবার হোটেলে কয়েকজন ব্যক্তির কথোপকথন থেকে বহিরাগত কর্মী আনার পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে। আলাপচারিতায় তাঁরা নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং নির্বাচনের দিন পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কর্মী এনে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ইঙ্গিত দেন।

কথোপকথনে আরও উঠে আসে, সাংবাদিক পরিচয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কার্ড ও “সাংবাদিক” লেখা গাড়ির স্টিকার সংগ্রহের বিষয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি গাড়িতে একজন সাংবাদিক থাকবেন, অন্যরা কর্মী হিসেবে যাতায়াত করবেন—এমন বক্তব্যও পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচন কভার করার নামে কিছু অখ্যাত, অনিবন্ধিত বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে কার্ড ও স্টিকার সংগ্রহ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচনী প্রভাব বিস্তার বা নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকার উদ্দেশ্যে এসব সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, সাংবাদিক পরিচয়পত্রের অপব্যবহার নির্বাচনী পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং ভোটারদের ওপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার, অনুমোদিত নির্বাচনী এজেন্ট, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বৈধভাবে অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও কেন্দ্র এলাকায় অবস্থান নিরুৎসাহিত। সাংবাদিক পরিচয়পত্র কেবল অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের জন্য প্রযোজ্য; এর অপব্যবহার আইনগত অপরাধ।

নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ত্রয়োদশ  নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত তৎপরতা জরুরি। পাশাপাশি সাংবাদিক পরিচয়পত্র বিতরণ ও ব্যবহারে কঠোর যাচাই–বাছাই নিশ্চিত করা হলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে।

সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—মানিকগঞ্জ–১ আসনে যেন উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং জনগণের রায়ই চূড়ান্তভাবে প্রতিফলিত হয় ব্যালটের মাধ্যমে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বহিরাগত কর্মী প্রবেশের সম্ভাব্য তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে। ভোটের দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় কর্মী এনে কেন্দ্র বা আশপাশে অবস্থান নেওয়ার কোনো চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “বহিরাগত প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সাংবাদিক কার্ড বা স্টিকার অপব্যবহারের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

ত্রয়োদশ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে মানিকগঞ্জ–১ আসনে কড়াকড়ি নজরদারির দাবি 

Update Time : ০১:৪৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ–১ আসনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে। বহিরাগত ব্যক্তি ও দলীয় কর্মী প্রবেশের সম্ভাবনা এবং সাংবাদিক পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার অপব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোলড়া এলাকার একটি খাবার হোটেলে কয়েকজন ব্যক্তির কথোপকথন থেকে বহিরাগত কর্মী আনার পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে। আলাপচারিতায় তাঁরা নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন এবং নির্বাচনের দিন পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কর্মী এনে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ইঙ্গিত দেন।

কথোপকথনে আরও উঠে আসে, সাংবাদিক পরিচয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কার্ড ও “সাংবাদিক” লেখা গাড়ির স্টিকার সংগ্রহের বিষয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি গাড়িতে একজন সাংবাদিক থাকবেন, অন্যরা কর্মী হিসেবে যাতায়াত করবেন—এমন বক্তব্যও পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচন কভার করার নামে কিছু অখ্যাত, অনিবন্ধিত বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে কার্ড ও স্টিকার সংগ্রহ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচনী প্রভাব বিস্তার বা নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকার উদ্দেশ্যে এসব সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, সাংবাদিক পরিচয়পত্রের অপব্যবহার নির্বাচনী পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং ভোটারদের ওপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার, অনুমোদিত নির্বাচনী এজেন্ট, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বৈধভাবে অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও কেন্দ্র এলাকায় অবস্থান নিরুৎসাহিত। সাংবাদিক পরিচয়পত্র কেবল অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের জন্য প্রযোজ্য; এর অপব্যবহার আইনগত অপরাধ।

নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ত্রয়োদশ  নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত তৎপরতা জরুরি। পাশাপাশি সাংবাদিক পরিচয়পত্র বিতরণ ও ব্যবহারে কঠোর যাচাই–বাছাই নিশ্চিত করা হলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে।

সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা—মানিকগঞ্জ–১ আসনে যেন উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং জনগণের রায়ই চূড়ান্তভাবে প্রতিফলিত হয় ব্যালটের মাধ্যমে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বহিরাগত কর্মী প্রবেশের সম্ভাব্য তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে। ভোটের দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় কর্মী এনে কেন্দ্র বা আশপাশে অবস্থান নেওয়ার কোনো চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “বহিরাগত প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সাংবাদিক কার্ড বা স্টিকার অপব্যবহারের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”