১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
সাটুরিয়ায় স্কুলের ক্লাস চলাকালেই চলছে প্রাইভেট ব্যবসা!

সাটুরিয়ায় স্কুলের ক্লাস চলাকালেই চলছে প্রাইভেট ব্যবসা!


মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বেংরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালেই প্রাইভেট ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মোঃ রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করে আসছেন, এমন তথ্য পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে।

স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক রাকিব হোসেন সকাল ১০টার দিকেই বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে “বিশেষ কোচিং” বা প্রাইভেট ক্লাস পরিচালনা করেন। ওই ক্লাসে মূলত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই অংশ নেয়। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি মাসে ৫০০ টাকা করে ফি নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্যে, “রাকিব স্যার ক্লাসে যেমন পড়ান, তেমনি আলাদা করে এখানে প্রাইভেট পড়ান। যারা প্রাইভেট পড়ে না, তাদের প্রতি তাঁর আচরণ ভালো থাকে না।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ রাকিব হোসেন বলেন,

“আমি শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্যই আলাদা করে বিশেষ পাঠদান করি।”
তবে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অর্থের বিনিময়ে পড়ানো কেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ভবন ব্যবহার করে শিক্ষক রাকিব হোসেন নিয়মিত প্রাইভেট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তিনি সরকারি বেতন নিচ্ছেন, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের অফিস সময়েই অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জুয়েল শিকদারও এই কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন এবং নীরব সমর্থন দিচ্ছেন।

অভিভাবক মহল আরও জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমও অনিয়মিত। সকাল ৯টায় ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ক্লাস শুরু হয় প্রায় ৯টা ৩০ মিনিটের পর। বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র চোখে পড়ে প্রতিবেদকের।

স্থানীয় সুশীল সমাজের সদস্যরা বলেন,“একজন সরকারি শিক্ষক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষকে ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টারে রূপান্তর করেছেন—এটি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অন্য শিক্ষকরা একই পথ অনুসরণ করতে পারেন।”

সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষকে প্রাইভেট ব্যবসার স্থানে রূপান্তরিত করা শুধু অনৈতিক নয়, এটি শিক্ষার মান নষ্ট করে ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার। প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপই পারে এই অনিয়ম বন্ধ করতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাটুরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতুল চন্দ্র সরকার বলেন,“বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে স্কুল টাইমে তো দূরের কথা, স্কুলের আগে বা পরে কোনোভাবেই প্রাইভেট কোচিং পরিচালনা করা যাবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষানীতির পরিপন্থী। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাটুরিয়ায় এতিম শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক এক

সাটুরিয়ায় স্কুলের ক্লাস চলাকালেই চলছে প্রাইভেট ব্যবসা!

সাটুরিয়ায় স্কুলের ক্লাস চলাকালেই চলছে প্রাইভেট ব্যবসা!

Update Time : ০১:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫


মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বেংরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালেই প্রাইভেট ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মোঃ রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করে আসছেন, এমন তথ্য পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে।

স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক রাকিব হোসেন সকাল ১০টার দিকেই বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে “বিশেষ কোচিং” বা প্রাইভেট ক্লাস পরিচালনা করেন। ওই ক্লাসে মূলত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই অংশ নেয়। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি মাসে ৫০০ টাকা করে ফি নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্যে, “রাকিব স্যার ক্লাসে যেমন পড়ান, তেমনি আলাদা করে এখানে প্রাইভেট পড়ান। যারা প্রাইভেট পড়ে না, তাদের প্রতি তাঁর আচরণ ভালো থাকে না।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ রাকিব হোসেন বলেন,

“আমি শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্যই আলাদা করে বিশেষ পাঠদান করি।”
তবে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অর্থের বিনিময়ে পড়ানো কেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ভবন ব্যবহার করে শিক্ষক রাকিব হোসেন নিয়মিত প্রাইভেট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তিনি সরকারি বেতন নিচ্ছেন, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের অফিস সময়েই অবৈধভাবে আর্থিক লেনদেন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জুয়েল শিকদারও এই কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন এবং নীরব সমর্থন দিচ্ছেন।

অভিভাবক মহল আরও জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমও অনিয়মিত। সকাল ৯টায় ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ক্লাস শুরু হয় প্রায় ৯টা ৩০ মিনিটের পর। বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র চোখে পড়ে প্রতিবেদকের।

স্থানীয় সুশীল সমাজের সদস্যরা বলেন,“একজন সরকারি শিক্ষক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষকে ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টারে রূপান্তর করেছেন—এটি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অন্য শিক্ষকরা একই পথ অনুসরণ করতে পারেন।”

সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষকে প্রাইভেট ব্যবসার স্থানে রূপান্তরিত করা শুধু অনৈতিক নয়, এটি শিক্ষার মান নষ্ট করে ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার। প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপই পারে এই অনিয়ম বন্ধ করতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাটুরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতুল চন্দ্র সরকার বলেন,“বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে স্কুল টাইমে তো দূরের কথা, স্কুলের আগে বা পরে কোনোভাবেই প্রাইভেট কোচিং পরিচালনা করা যাবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষানীতির পরিপন্থী। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”