০৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

কৃষিজমি ধ্বংস করে মাটি বাণিজ্য: ডালিমের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের গারাদিয়া গ্রামে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ডালিম নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গারাদিয়া গ্রামের একটি আবাদি জমি থেকে গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিতভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন গভীর রাতে আনুমানিক রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ট্রাক ও ট্রাক্টরের সাহায্যে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়। এতে করে উর্বর কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ডালিমের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। ফলে অনেকেই ভয়ভীতি ও চাপে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয়রা আরও জানান, রাতের অন্ধকারে ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলের কারণে গ্রামের সড়কও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ বাধা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গারাদিয়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি উত্তোলন বন্ধ করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ফসলি জমি বা অন্য কোনো স্থান থেকে মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইনের আওতায় দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতিসাধনকারী এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

কৃষিজমি ধ্বংস করে মাটি বাণিজ্য: ডালিমের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ

Update Time : ০৪:২৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের গারাদিয়া গ্রামে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ডালিম নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে কৃষিজমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গারাদিয়া গ্রামের একটি আবাদি জমি থেকে গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিতভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন গভীর রাতে আনুমানিক রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ট্রাক ও ট্রাক্টরের সাহায্যে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়। এতে করে উর্বর কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ডালিমের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। ফলে অনেকেই ভয়ভীতি ও চাপে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয়রা আরও জানান, রাতের অন্ধকারে ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলের কারণে গ্রামের সড়কও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেউ বাধা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গারাদিয়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি উত্তোলন বন্ধ করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ফসলি জমি বা অন্য কোনো স্থান থেকে মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইনের আওতায় দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতিসাধনকারী এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।