গভীর শোক, কৃতজ্ঞতা ও আবেগে ভাস্বর হয়ে দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করার বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
এক আবেগঘন বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “মায়ের অনুপস্থিতির শূন্যতা অসীম হলেও এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি। লক্ষ-লক্ষ মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আমাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশ-বিদেশের অসংখ্য নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়স্বজন ও সাধারণ মানুষ যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। “এই ভালোবাসা আবারও আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে—তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; বহু দিক থেকে তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা,”—বলেন তারেক রহমান।
বক্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টিও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। পাশাপাশি যেসব দেশ ও প্রতিষ্ঠান সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
শোকের এই মুহূর্তে তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে। তারেক রহমান বলেন, “আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।”
মায়ের রাজনৈতিক ও মানবিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর সেই আদর্শ ও দায়িত্ব আজ গভীরভাবে অনুভব করছেন তিনি। “যেখানে আমার মা’র পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।
সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বলেন, “তিনি যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ রেখে গেছেন, সেখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য ও দেশপ্রেমের প্রেরণা খুঁজে পাবো।”
স্টাফ রিপোর্টার : 















