১০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

পাটুরিয়া ঘাটে সেলফি পরিবহন থেকে বছরে  কোটি টাকার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় সেলফি পরিবহন থেকে শ্রমিকদের নাম ভাঙিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা এভাবে বছরে প্রায় কোটি টাকার ঊর্ধ্বে  চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখেও না দেখার ভান করে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ডিউটি করেন। 

সরেজমিনে গিয়ে সেলফি পরিবহনের কাউন্টারে দুইজন কর্মীকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা তোফাজ্জল হোসেন জানান, ভোর ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঁচ মিনিট পরপর পাটুরিয়া ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে গাড়ি ছেড়ে যায়। প্রতিদিন গড়ে ১৮০ থেকে ১৯০টি গাড়ি চলাচল করে এবং প্রতিটি গাড়ি থেকে ২৫০ টাকা নেওয়া হয়, এর মধ্যে ৫০ টাকা পার্কিং বাবদ রাখা হয়, বাকি টাকা সুপারভাইজার সুলতানের কাছে জমা দেওয়া হয়।

সুপারভাইজার সুলতান বলেন, সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ ১৮-২০ জন কর্মচারীর বেতন বাবদ ব্যয় হয়, বাকি অর্থ সড়ক ব্যয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি থানা প্রশাসন অবগত রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। মালিকদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে। তারা বলেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই দুষ্টচক্র ভাঙা সম্ভব নয়। জনস্বার্থে দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবালয় থানা-এর অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনির হোসেন বলেন, কত টাকা নেওয়া হয় তা তার জানা নেই। মালিকপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাটুরিয়ায় এতিম শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক এক

পাটুরিয়া ঘাটে সেলফি পরিবহন থেকে বছরে  কোটি টাকার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

Update Time : ০৯:০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় সেলফি পরিবহন থেকে শ্রমিকদের নাম ভাঙিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা এভাবে বছরে প্রায় কোটি টাকার ঊর্ধ্বে  চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখেও না দেখার ভান করে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ডিউটি করেন। 

সরেজমিনে গিয়ে সেলফি পরিবহনের কাউন্টারে দুইজন কর্মীকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা তোফাজ্জল হোসেন জানান, ভোর ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঁচ মিনিট পরপর পাটুরিয়া ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে গাড়ি ছেড়ে যায়। প্রতিদিন গড়ে ১৮০ থেকে ১৯০টি গাড়ি চলাচল করে এবং প্রতিটি গাড়ি থেকে ২৫০ টাকা নেওয়া হয়, এর মধ্যে ৫০ টাকা পার্কিং বাবদ রাখা হয়, বাকি টাকা সুপারভাইজার সুলতানের কাছে জমা দেওয়া হয়।

সুপারভাইজার সুলতান বলেন, সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ ১৮-২০ জন কর্মচারীর বেতন বাবদ ব্যয় হয়, বাকি অর্থ সড়ক ব্যয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি থানা প্রশাসন অবগত রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। মালিকদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে। তারা বলেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই দুষ্টচক্র ভাঙা সম্ভব নয়। জনস্বার্থে দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবালয় থানা-এর অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনির হোসেন বলেন, কত টাকা নেওয়া হয় তা তার জানা নেই। মালিকপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।