০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে 

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে 

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের মেসার্স মুন্সি ট্রেডার্সের মালিক খবির হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রশাসনের নাকের ডগায়  সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিভিন্ন উপজেলায় চড়া দামে সার বিক্রি করে আসছে।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জয়রা রোড এলাকা থেকে ২৬ বস্তা ডিএপি সার অবৈধভাবে বিক্রির সময় বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন খবির উদ্দিন জয়রা রোড এলাকা থেকে ঘিওর উপজেলার চরবাইলজুরী গ্রামের আতোয়ার রহমানের কাছে ২৬ বস্তা ডিএপি সার বিক্রি করেন। সংবাদ পেয়ে সাংবাদিকরা তরা মুন্নু গেট সংলগ্ন স্থানে গেলে সারের বোঝাই গাড়িটি সেখানে এসে পৌঁছায়।

এসময় আতোয়ার রহমান সাংবাদিকদের জানান, তিনি মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার খবির উদ্দিনের কাছ থেকে সারগুলো কিনেছেন এবং ঘিওর নিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পয়লা ইউনিয়নের ডিলার আনোয়ার সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনকে পাঠান। তিনি ঘটনাস্থল থেকে সারগুলো জব্দ করে গড়পাড়া কৃষি গোডাউনে হস্তান্তর করেন এবং কৃষক আতোয়ার রহমানকে সার বাবদ প্রদত্ত টাকা ফেরত দেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কিছু অসাধু ডিলার কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রায় প্রতি বছরই অন্য উপজেলায় সার পাচার করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। পরে এসব সার চড়া দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়।

সচেতন মহল মনে করছেন, এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে সারের কৃত্রিম সংকট এবং কৃষকদের হয়রানি অনেকাংশে বন্ধ হবে।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম ভূঁইয়া বলেন,“আমরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করেছি এবং সতর্ক করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেজবাহ উল সাবেরিন জানান,

“আমরা তাকে ২০১৬ সালের সার ব্যবস্থাপনা আইনের ১২ ধারায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে 

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে 

Update Time : ০২:১৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের মেসার্স মুন্সি ট্রেডার্সের মালিক খবির হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রশাসনের নাকের ডগায়  সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিভিন্ন উপজেলায় চড়া দামে সার বিক্রি করে আসছে।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জয়রা রোড এলাকা থেকে ২৬ বস্তা ডিএপি সার অবৈধভাবে বিক্রির সময় বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন খবির উদ্দিন জয়রা রোড এলাকা থেকে ঘিওর উপজেলার চরবাইলজুরী গ্রামের আতোয়ার রহমানের কাছে ২৬ বস্তা ডিএপি সার বিক্রি করেন। সংবাদ পেয়ে সাংবাদিকরা তরা মুন্নু গেট সংলগ্ন স্থানে গেলে সারের বোঝাই গাড়িটি সেখানে এসে পৌঁছায়।

এসময় আতোয়ার রহমান সাংবাদিকদের জানান, তিনি মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার খবির উদ্দিনের কাছ থেকে সারগুলো কিনেছেন এবং ঘিওর নিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পয়লা ইউনিয়নের ডিলার আনোয়ার সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনকে পাঠান। তিনি ঘটনাস্থল থেকে সারগুলো জব্দ করে গড়পাড়া কৃষি গোডাউনে হস্তান্তর করেন এবং কৃষক আতোয়ার রহমানকে সার বাবদ প্রদত্ত টাকা ফেরত দেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কিছু অসাধু ডিলার কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রায় প্রতি বছরই অন্য উপজেলায় সার পাচার করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। পরে এসব সার চড়া দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়।

সচেতন মহল মনে করছেন, এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে সারের কৃত্রিম সংকট এবং কৃষকদের হয়রানি অনেকাংশে বন্ধ হবে।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম ভূঁইয়া বলেন,“আমরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করেছি এবং সতর্ক করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেজবাহ উল সাবেরিন জানান,

“আমরা তাকে ২০১৬ সালের সার ব্যবস্থাপনা আইনের ১২ ধারায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”