ঢাকা বিভাগের পার্শ্ববর্তী বিএনপির অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক ঘাঁটি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ উপজেলাতেই কিংবদন্তি যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করছেন হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবু সা’দাত মো. শাহিন (মোল্লা শাহিন)।
দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের কারণে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দুর্দিনে রাজপথে থেকে বেড়ে ওঠা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত এই লড়াকু সৈনিক একসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। পরবর্তীতে নেতৃত্বের মাধ্যমে কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলকে সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিএনপির সরকার আমলে ২০০৩ সালে উপজেলা ছাত্রদলের কমিটিতে অপরাজনীতির শিকার হলেও তিনি থেমে থাকেননি। বরং মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখেন। বিএনপির জোট সরকার পতনের পর যখন অনেকেই রাজনীতি থেকে সরে যান বা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আঁতাত করেন, তখন মোল্লা শাহিন দৃঢ়ভাবে মাঠে অবস্থান করেন। তিনি নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন এবং বিপদে পাশে দাঁড়ান।
একইসঙ্গে তিনি ছিলেন তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের একজন উদীয়মান ও ত্যাগী ছাত্রনেতা। ২০১৩-১৪ সালে মাসুদ পারভেজ ও মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের নেতৃত্বাধীন কমিটির সময়ে আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে তাকে একাধিকবার জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তবে এক মুহূর্তের জন্যও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন সোচ্চার ও সক্রিয়।
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জেলা শহরে সর্বপ্রথম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল আয়োজন করেন মোল্লা শাহিন। এ কারণে তার পরিবারকেও পুলিশি জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মানিকগঞ্জ জেলার যুবদলের নয়টি ইউনিটের মধ্যে সর্বপ্রথম হরিরামপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটি এবং পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন। তার নির্দেশনায় প্রতিটি ইউনিয়নে ওয়ার্ড কমিটিও গঠিত হয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে নিজের জীবননাশের ঝুঁকি উপেক্ষা করে ঢাকার রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এই সংগ্রামী নেতা।
মোল্লা শাহিন বলেন,
“হরিরামপুরবাসীর দুর্দিনে আমি পাশে ছিলাম, আছি এবং মা-মাটি রক্ষার্থে ভবিষ্যতেও থাকব—ইনশাআল্লাহ।”
দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে বর্তমানে হরিরামপুর উপজেলায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন বলে মনে করেন সর্বস্তরের মানুষ।
মোহাম্মদ আলী, স্টাফ রিপোর্টার: 















