০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সাটুরিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকেরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাটুরিয়া উপজেলার সদর এলাকার ভান্ডারী পাড়া মহল্লায় একটি দাগের মোট সাড়ে ১৬ শতাংশ জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জমি দখলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জানা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো উচ্ছেদ বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমি উদ্ধারের দাবিতে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন ও মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—দখলদারদের সঙ্গে প্রশাসনের কোনো অস্বচ্ছ লেনদেন রয়েছে কি না।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি জমি দখল প্রকাশ্য বিষয় হওয়া সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়া রহস্যজনক। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।”

উন্নয়ন প্রকল্প ও জমি বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ
ইউএনও মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া ডিসি পার্ক উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজের অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া সাটুরিয়া ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন এলাকায় জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্যের নামে বরাদ্দ বাতিল করে নিজের কর্মচারীদের জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সাটুরিয়া–বালিয়াটি সড়কের পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামে তাঁর কথিত বডিগার্ডকে জমি বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

ক্রীড়া আয়োজন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ
‘উপজেলা প্রশাসন কাপ ২০২৫’ আয়োজনকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে ইউএনওর বিরুদ্ধে। স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও আয়োজকদের একটি অংশের দাবি, আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা নেই।

তদন্তের দাবি.

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তাঁদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হবে।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি.

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

মানিকগঞ্জে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমাবেশ অনুষ্ঠিত ।

সাটুরিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

Update Time : ১০:০৮:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকেরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাটুরিয়া উপজেলার সদর এলাকার ভান্ডারী পাড়া মহল্লায় একটি দাগের মোট সাড়ে ১৬ শতাংশ জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জমি দখলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জানা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো উচ্ছেদ বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমি উদ্ধারের দাবিতে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন ও মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—দখলদারদের সঙ্গে প্রশাসনের কোনো অস্বচ্ছ লেনদেন রয়েছে কি না।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি জমি দখল প্রকাশ্য বিষয় হওয়া সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়া রহস্যজনক। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।”

উন্নয়ন প্রকল্প ও জমি বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ
ইউএনও মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া ডিসি পার্ক উন্নয়নের নামে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজের অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া সাটুরিয়া ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন এলাকায় জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্যের নামে বরাদ্দ বাতিল করে নিজের কর্মচারীদের জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সাটুরিয়া–বালিয়াটি সড়কের পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামে তাঁর কথিত বডিগার্ডকে জমি বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

ক্রীড়া আয়োজন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ
‘উপজেলা প্রশাসন কাপ ২০২৫’ আয়োজনকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে ইউএনওর বিরুদ্ধে। স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ও আয়োজকদের একটি অংশের দাবি, আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা নেই।

তদন্তের দাবি.

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তাঁদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হবে।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি.

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।