মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পানিতে ডুবে আনিসা আক্তার (১৩) নামের এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আজ (২ অক্টোবর, ২০২৬) শুক্রবার সকাল থেকেই হরিরামপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য ও জবানবন্দি সংগ্রহ করেছে।
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চালা ইউনিয়নের সট্টি গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত আনিসা আক্তার তার পরিবারের সাথে মাত্র দুদিন আগে কক্সবাজার থেকে সট্টি গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের বাসিন্দা আনিসা আক্তার তার মায়ের সাথে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে বেশ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে দিন কাটাচ্ছিল। গতকাল দুপুরের দিকে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার একপর্যায়ে সবার অগোচরে সে বাড়ির নিকটবর্তী একটি খালের গভীর পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে খালের পানিতে তার দেহ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আনিসাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই অতিরিক্ত পানি পেটে ঢুকে শ্বাসকষ্টের কারণে তার মৃত্যু হয়েছিল।
কক্সবাজার থেকে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এভাবে এক চঞ্চল কিশোরীর আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে পুরো চালা ইউনিয়ন জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে সট্টি গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

হরিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে নিছক দুর্ঘটনা বা অসাবধানতাবশত ডুবে মৃত্যু মনে হলেও, এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা অবহেলা রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতেই এই তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 




















