মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী নদী থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর মাথাবিহীন ও বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ (৪ অক্টোবর, ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চরকৃষ্ণপুর এলাকা সংলগ্ন নদীর তীরবর্তী পানি থেকে এই ক্ষতবিক্ষত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নৃশংস এবং বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য, ক্ষোভ ও গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত কিশোরীর সঠিক পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় प्रत्यक्षदर्शी ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরের দিকে চরকৃষ্ণপুর ঘাটের কাছাকাছি ধলেশ্বরী নদীতে একটি বস্তুসদৃশ জিনিস ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও জেলেরা। কৌতূহলবশত তারা নৌকার সাহায্যে কাছে গিয়ে দেখতে পান, সেটি একটি মানুষের নগ্ন দেহ এবং তার মাথাটি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা। এই বীভৎস দৃশ্য দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে জানানো হলে বিকেলের দিকে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ধলেশ্বরী নদী থেকে কিশোরীর মাথাবিহীন দেহটি উদ্ধার করে সন্ধ্যায় পাড়ে আনা হয়। সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহত কিশোরীর আনুমানিক বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছর।
এলাকাবাসীর দাবি, মেয়েটি এই এলাকার বাসিন্দা নয়। অপরাধীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে অন্য কোনো নির্জন স্থানে তাকে শ্বাসরোধে বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে থাকতে পারে। এরপর পরিচয় গোপন করা এবং আলামত সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে মাথাটি কেটে নিয়ে দেহটি ধলেশ্বরী নদীতে ভাসিয়ে দেয়, যাতে কেউ সহজে তাকে চিনতে না পারে। এমন নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খুনিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ টিম পাঠানো হয় এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর আগে তার ওপর কোনো পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ প্রশাসন আরও জানিয়েছে, নিহত কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত করার জন্য জেলা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং সিআইডি ক্রাইম সিন টিম ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আশপাশের থানাগুলোতে নিখোঁজের তালিকা ধরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িত খুনিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 


















