০২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
মানিকগঞ্জের ফুলহারা গ্রামে মানসিক হতাশায় মেহগনি গাছ থেকে রাসেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার

ঘিওরে মানসিক হতাশায় যুবকের আত্মহত্যা, মেহগনি গাছ থেকে মরদেহ উদ্ধার

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় চরম মানসিক হতাশায় ভুগে মো. রাসেল মিয়া (২৬) নামের এক যুবক গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ একটি মেহগনি গাছ থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের ফুলহারা গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকায়। নিহত রাসেল মিয়া ওই গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন সাধারণ শ্রমজীবী ছিলেন বলে জানা গেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী মুক্তা বেগম এবং মাত্র পাঁচ বছর বয়সী একটি অবুঝ কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ফুলহারা গ্রামের বাতাস।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাসেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক ও পারিবারিক হতাশায় ভুগছিলেন। এই হতাশা ও অবসাদের কারণে তাঁর মানসিক ভারসাম্যও কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছিল। এর আগেও তিনি একাধিকবার নিজের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়ার তথা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতেও তিনি নিজ ঘরে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। সে সময় তাঁর বড় ভাই বিষয়টি টের পেয়ে যান এবং অত্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে রাসেলের গলার রশি কেটে তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন। পরে পরিবারের সবাই মিলে তাঁকে অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে শান্ত করেন এবং ঘরে শুইয়ে রাখেন।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, রাতের কোনো এক সময় যখন পরিবারের সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলেন, তখন সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে রাসেল অত্যন্ত গোপনে ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, গভীর রাতে বা ভোররাতের কোনো এক প্রহরে তিনি এই আত্মহননের পথ বেছে নেন।

পরবর্তীতে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আনুমানিক ১০০ গজ দূরে একটি পতিত জমির আইলে মেহগনি গাছের উঁচু ডালের সাথে রাসেলের নিথর দেহ আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় বিষয়টি নজরে এলে তারা চিৎকার শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে গ্রামবাসী ভিড় জমায় এবং রাসেলের পরিবারকে খবর দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঘিওর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ থেকে মরদেহটি নিচে নামিয়ে এনে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, সকালের দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ফুলহারা গ্রামে যায় এবং মেহগনি গাছ থেকে উক্ত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট এবং নিহতের পরিবারের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তীব্র মানসিক হতাশা ও অবসাদ থেকেই রাসেল মিয়া এই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং এটি একটি সুস্পষ্ট আত্মহত্যার ঘটনা হওয়ায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে নাকি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হরিরামপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ৪ জেলের ৭ দিনের কারাদণ্ড।

মানিকগঞ্জের ফুলহারা গ্রামে মানসিক হতাশায় মেহগনি গাছ থেকে রাসেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার

ঘিওরে মানসিক হতাশায় যুবকের আত্মহত্যা, মেহগনি গাছ থেকে মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ০২:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় চরম মানসিক হতাশায় ভুগে মো. রাসেল মিয়া (২৬) নামের এক যুবক গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ একটি মেহগনি গাছ থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের ফুলহারা গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকায়। নিহত রাসেল মিয়া ওই গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন সাধারণ শ্রমজীবী ছিলেন বলে জানা গেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী মুক্তা বেগম এবং মাত্র পাঁচ বছর বয়সী একটি অবুঝ কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ফুলহারা গ্রামের বাতাস।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাসেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক ও পারিবারিক হতাশায় ভুগছিলেন। এই হতাশা ও অবসাদের কারণে তাঁর মানসিক ভারসাম্যও কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছিল। এর আগেও তিনি একাধিকবার নিজের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়ার তথা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতেও তিনি নিজ ঘরে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। সে সময় তাঁর বড় ভাই বিষয়টি টের পেয়ে যান এবং অত্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে রাসেলের গলার রশি কেটে তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন। পরে পরিবারের সবাই মিলে তাঁকে অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে শান্ত করেন এবং ঘরে শুইয়ে রাখেন।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, রাতের কোনো এক সময় যখন পরিবারের সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলেন, তখন সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে রাসেল অত্যন্ত গোপনে ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, গভীর রাতে বা ভোররাতের কোনো এক প্রহরে তিনি এই আত্মহননের পথ বেছে নেন।

পরবর্তীতে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে আনুমানিক ১০০ গজ দূরে একটি পতিত জমির আইলে মেহগনি গাছের উঁচু ডালের সাথে রাসেলের নিথর দেহ আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় বিষয়টি নজরে এলে তারা চিৎকার শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে গ্রামবাসী ভিড় জমায় এবং রাসেলের পরিবারকে খবর দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ঘিওর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ থেকে মরদেহটি নিচে নামিয়ে এনে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, সকালের দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ফুলহারা গ্রামে যায় এবং মেহগনি গাছ থেকে উক্ত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট এবং নিহতের পরিবারের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তীব্র মানসিক হতাশা ও অবসাদ থেকেই রাসেল মিয়া এই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং এটি একটি সুস্পষ্ট আত্মহত্যার ঘটনা হওয়ায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে নাকি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।