০৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
দৌলতপুরে যমুনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ও ছবি নিয়ে নেটিজেনদের সমালোচনা

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের ছবি নিয়ে বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন দৌলতপুরের মৎস্য কর্মকর্তা

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে যমুনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সূরাইয়া আক্তার তন্নীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছবিতে জব্দ করা ইলিশ হাতে কর্মকর্তাকে দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এটিকে ‘ফটোসেশন’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেন।

তবে ছবিটি নিয়ে ওঠা সমালোচনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সূরাইয়া আক্তার তন্নী। তিনি দাবি করেন, ছবিটি কোনো ব্যক্তিগত প্রচারণা বা ফটোসেশনের উদ্দেশ্যে তোলা হয়নি; বরং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের পেশাগত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ছবিটি ধারণ করা হয়েছে।

গত ২২ অক্টোবর যমুনা নদীতে পরিচালিত অভিযানের সময় জব্দ করা ইলিশের সঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ছবিটি ধারণ করা হয়। পরে ছবিটি ইলিশ সংরক্ষণ-সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে অফিসিয়াল পেইজে প্রকাশ করা হয় বলে জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এর প্রেক্ষাপট নিয়ে নানা মন্তব্য দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য যাচাই না করে মন্তব্য করলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে।

মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করাই নয়, ইলিশের প্রজননকালীন বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, জব্দকৃত মাছের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা তৈরিও মাঠপর্যায়ের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দৌলতপুরের যমুনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় নদীতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা, অবৈধভাবে মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ, জব্দকৃত মাছের তথ্য সংরক্ষণ এবং ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সূরাইয়া আক্তার তন্নী বলেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে ইলিশের প্রজননকালীন শারীরিক পরিবর্তন ও বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ছবিটি তুলেছিলাম। পাশাপাশি, ছবিটি অভিযানে জব্দকৃত ইলিশের প্রমাণক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। একজন মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে এটি আমার পেশাগত কাজেরই অংশ।”

তিনি বলেন, “ছবিটি ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য নয়, ইলিশের দৈনিক প্রতিবেদনের সঙ্গে অফিসিয়াল পেইজে প্রকাশ করা হয়েছিল। দুঃখজনকভাবে, মূল প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ছবিটি ভিন্ন শিরোনামে উপস্থাপন করা হয়েছে। একটি ছবি দেখে পুরো অভিযানের কার্যক্রম বা একজন কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ বিচার করা সমীচীন নয়।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাংলাদেশের লক্ষ্মীসরা: মাটির পটে বাংলার লোকশিল্পের বিস্ময়

দৌলতপুরে যমুনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান ও ছবি নিয়ে নেটিজেনদের সমালোচনা

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের ছবি নিয়ে বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন দৌলতপুরের মৎস্য কর্মকর্তা

Update Time : ০৯:৪৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে যমুনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সূরাইয়া আক্তার তন্নীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছবিতে জব্দ করা ইলিশ হাতে কর্মকর্তাকে দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এটিকে ‘ফটোসেশন’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেন।

তবে ছবিটি নিয়ে ওঠা সমালোচনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সূরাইয়া আক্তার তন্নী। তিনি দাবি করেন, ছবিটি কোনো ব্যক্তিগত প্রচারণা বা ফটোসেশনের উদ্দেশ্যে তোলা হয়নি; বরং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের পেশাগত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ছবিটি ধারণ করা হয়েছে।

গত ২২ অক্টোবর যমুনা নদীতে পরিচালিত অভিযানের সময় জব্দ করা ইলিশের সঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ছবিটি ধারণ করা হয়। পরে ছবিটি ইলিশ সংরক্ষণ-সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে অফিসিয়াল পেইজে প্রকাশ করা হয় বলে জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এর প্রেক্ষাপট নিয়ে নানা মন্তব্য দেখা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য যাচাই না করে মন্তব্য করলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে।

মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করাই নয়, ইলিশের প্রজননকালীন বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, জব্দকৃত মাছের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা তৈরিও মাঠপর্যায়ের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দৌলতপুরের যমুনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় নদীতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা, অবৈধভাবে মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ, জব্দকৃত মাছের তথ্য সংরক্ষণ এবং ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সূরাইয়া আক্তার তন্নী বলেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে ইলিশের প্রজননকালীন শারীরিক পরিবর্তন ও বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ছবিটি তুলেছিলাম। পাশাপাশি, ছবিটি অভিযানে জব্দকৃত ইলিশের প্রমাণক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। একজন মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে এটি আমার পেশাগত কাজেরই অংশ।”

তিনি বলেন, “ছবিটি ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য নয়, ইলিশের দৈনিক প্রতিবেদনের সঙ্গে অফিসিয়াল পেইজে প্রকাশ করা হয়েছিল। দুঃখজনকভাবে, মূল প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ছবিটি ভিন্ন শিরোনামে উপস্থাপন করা হয়েছে। একটি ছবি দেখে পুরো অভিযানের কার্যক্রম বা একজন কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ বিচার করা সমীচীন নয়।”