মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে ভুয়া ‘ডোপ টেস্ট’ (মাদক পরীক্ষা) রিপোর্ট দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই সংক্রান্ত সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর হাসপাতাল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা তাৎক্ষণিক তৎপরতা শুরু করেছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. তৌহিদুল ইসলাম ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সকালে কলেজের প্যাথলজি ল্যাব থেকে দেওয়া একটি ডোপ টেস্ট রিপোর্টের স্বাক্ষর দেখে কর্মকর্তাদের মনে গভীর সন্দেহ দেখা দেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই স্বাক্ষর ও সিল নিজের নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। এর সূত্র ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জমা পড়া একাধিক রিপোর্ট সংগ্রহ করে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত চক্র টাকার বিনিময়ে চিকিৎসকের ভুয়া স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে ভুয়া ডোপ টেস্টের রিপোর্ট সরবরাহ করে আসছিল।
এই মারাত্মক জালিয়াতির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. তাহমিনা নাজনীন। তিনি সরকারি রিপোর্টে তার নাম ও ভুয়া সিল-স্বাক্ষর ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বর্তমানে এই মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে ল্যাব টেকনোলজিস্ট হিসেবে আজমেরী আক্তার এবং ল্যাব ইনচার্জ হিসেবে মো. আব্দুল কুদ্দুস কর্মরত আছেন। তবে এর পাশাপাশি কোনো ধরনের বৈধ নিয়োগপত্র ছাড়াই দীর্ঘ ৪ বছর ধরে সাগর হোসেন ও মিতু মনি নামে দুই বহিরাগত ব্যক্তি প্যাথলজি ল্যাবে অবৈধভাবে টেকনিশিয়ানের কাজ করে আসছিলেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে, যা এই বৃহৎ জালিয়াতি চক্রের নেপথ্যে থাকার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অধ্যক্ষ ডা. তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে জালিয়াতির সাথে জড়িত কর্মকর্তা, কর্মচারী বা বহিরাগত যারাই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 


















