মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. বাহাউদ্দীনের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক বিশাল মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-জনতা।
বিক্ষোভকারীরা হাসপাতাল চত্বরে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি হাসপাতালের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখা স্থানীয় নেতারা ডা. বাহাউদ্দীনের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং হাসপাতালের টেন্ডার বাণিজ্যে দুর্নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মানিকগঞ্জে আহত ছাত্র-জনতা যখন রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আসছিলেন, তখন তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশে হাসপাতালের মূল ফটক বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে অনেক জরুরি রোগী সময়মতো চিকিৎসা পাননি, যা চরম অমানবিকতা ও দায়িত্বহীনতার শামিল। এছাড়া হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় ই-জিপির নামে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং সাধারণ রোগীদের প্রতিনিয়ত দালালদের মাধ্যমে হয়রানি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন বক্তারা।
সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে মানিকগঞ্জ হাসপাতাল থেকে অপসারণ বা ওএসডি করা না হয়, তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সিভিল সার্জন কার্যালঘ ঘেরাওসহ আরও কঠোর ও সর্বাত্মক কর্মসূচি ঘোষণা করার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. বাহাউদ্দীন। তিনি জানান, হাসপাতালের প্রতিটি কার্যক্রম সরকারি বিধিমালা মেনে পরিচালিত হয় এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। আন্দোলন চলাকালীন সময়েও হাসপাতালের পক্ষ থেকে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















