মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপনের কাজে নিষিদ্ধ ও দুর্গন্ধযুক্ত পচা গোবর ব্যবহারের তীব্র অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক এই বোরিং পদ্ধতিতে গোবর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও, ঠিকাদার ও মিস্ত্রিরা অবাধে এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গালা ইউনিয়নের কৌড়ী গ্রামে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’-এর আওতায় ৩০০ গ্রামীণ বাড়িতে পানি সরবরাহের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের গভীর নলকূপ বোরিংয়ের কাজে রাসায়নিক উপাদান ‘বেন্টোনাইট-ক্লে’ ব্যবহারের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। তবে খরচ বাঁচাতে এবং কাজের সুবিধার অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বেন্টোনাইটের পরিবর্তে পচা গোবর ব্যবহার করছে। এতে করে এলাকার সুপেয় পানির স্তর দূষিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
কাজের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রহমান এন্টারপ্রাইজ’-এর কর্ণধার সৈয়দ আহমেদ মুঠোফোনে গোবর ব্যবহারের কথা স্বীকার করে জানান, বেন্টোনাইট দিলে মাটির সাইড ভাঙা রোখা যায় না, তাই মিস্ত্রিরা কাজের সুবিধার্থে গোবর ব্যবহার করছে।
হরিরামপুর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মিস্ত্রিদের গোবর ব্যবহার করতে নিষেধ করেছি।” তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এখনও কোনো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















