দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ আর অবহেলার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন মানিকগঞ্জের অন্যতম পুরোনো আবাসন প্রকল্প ‘দিয়াবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প’-এর বাসিন্দারা। পুনর্বাসনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘরগুলোর সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন এখানকার শতাধিক পরিবার। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে ঘরের ভেতর পানি পড়ে ভেসে যায় আসবাবপত্র। ফলে পলিথিন টাঙিয়ে কিংবা বিনিদ্র রজনী পার করতে হচ্ছে হতদরিদ্র এই পরিবারগুলোকে।
সরেজমিনে দিয়াবাড়ী আবাসন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে, বহু জায়গায় দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে ঘরের দরজা ও জানালা। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় বর্ষাকালে। ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে চৌকির ওপর পলিথিন টাঙিয়ে কিংবা হাঁড়ি-পাতিল পেতেও পানি আটকানো যায় না।
আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ঘরগুলো এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘরের ভেতরে ঘুমানো তো দূরের কথা, বৃষ্টির দিনে রান্না করারও উপায় থাকে না। সন্তানদের বইখাতা থেকে শুরু করে বিছানাপত্র সব ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে আমরা এই কষ্টের কথা প্রশাসনকে জানাচ্ছি, কিন্তু কেউ আমাদের ঘরগুলো মেরামত করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।”
শুধু থাকার ঘরই নয়, আবাসন প্রকল্পটির স্যানিটেশন ব্যবস্থাও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ল্যাট্রিনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে নারী ও শিশুরা। পাশাপাশি টিউবওয়েলগুলো নষ্ট থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য দূর-দূরান্তে যেতে হচ্ছে এখানকার বাসিন্দাদের।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, দিয়াবাড়ী আবাসন প্রকল্পের ঘরগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি তারা অবগত আছেন। দ্রুতই একটি বরাদ্দ এনে ঘরগুলো সংস্কার এবং বাসিন্দাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ এই কাজ শুরু হবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি তারা।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















