জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে অবৈধ অস্ত্রের মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এক যুবক। মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বরাই গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মোঃ দিনা ওরফে দিদার নামের এক যুবক প্রতিপক্ষের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটির নিচে দুটি পাইপগান পুঁতে রেখে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে খবর দেন। তবে পুলিশের তদন্তে মূল রহস্য উদঘাটিত হওয়ায় আজ শনিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করার বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বরাই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ দিনা ওরফে দিদারের সাথে প্রতিবেশী রামপ্রসাদ ঘোষের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। রামপ্রসাদকে চিরতরে শায়েস্তা করতে দিদার এক অভিনব ও বিপজ্জনক পরিকল্পনা করেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ও তার সহযোগী স্বাধীন মিলে গোপনে রামপ্রসাদের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটির নিচে দুটি অবৈধ দেশীয় তৈরি পাইপগান পুঁতে রাখেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিদার নিজেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেন যে রামপ্রসাদের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল গতকাল শুক্রবার ভোরে রামপ্রসাদের বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালায় এবং দিদারের দেখিয়ে দেওয়া নির্দিষ্ট স্থান থেকে মাটির নিচে লুকানো দুটি পাইপগান উদ্ধার করে।
অস্ত্র উদ্ধারের পর রামপ্রসাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এটিকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, তথ্যদাতা দিদারের অতি-উৎসাহী আচরণ এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা দেখে পুলিশের কর্মকর্তাদের মনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ দিদারকে হেফাজতে নিয়ে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পুলিশের কৌশলী জেরার মুখে দিদার ভেঙে পড়েন এবং স্বীকার করেন যে রামপ্রসাদকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠাতে তিনি নিজেই সহযোগী স্বাধীনকে সাথে নিয়ে এই পাইপগান দুটি কিনে মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জানান, প্রতিপক্ষকে অন্যায়ভাবে ফাঁসাতে গিয়ে অবৈধ অস্ত্র কেনা এবং মাটির নিচে লুকিয়ে রাখার অপরাধে দিদারকে আজ শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই ঘটনায় দিদার ও তার পলাতক সহযোগী স্বাধীনের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক স্বাধীনকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















