মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে (এলএসডি) সরকারি চাল ও গমের মজুতে বড় ধরনের অনিয়ম, গরমিল ও সরকারি মালামাল আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। গুদাম থেকে প্রায় ১২০ টন চাল ও গম উধাও হওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (খাদ্য পরিদর্শক) বিপুল কুমারকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা অধিদপ্তরের একটি বিশেষ পরিদর্শন ও তদন্ত কমিটি সম্প্রতি ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে আকস্মিক অডিট ও স্টক যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্ত কর্মকর্তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ শারীরিক গণনায় সরকারি জরুরি মজুত থেকে ১০০ মেট্রিক টন চাল এবং ২০ মেট্রিক টন গম কম পাওয়া যায়, যার কোনো বৈধ হিসাব বা নথিপত্র গুদাম কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি। এছাড়া তদন্তে গুদামে নির্ধারিত হিসাবের চেয়ে ৪১ মেট্রিক টন ধান বেশি এবং সরকারি শস্য সংরক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত ৬ হাজার ৫০০টি চটের খালি বস্তার ঘাটতি বা কম ধরা পড়ে।
সরকারি বিধিমালা ও তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয় এবং অনিয়ম কবলিত পুরো গুদামটি প্রশাসনিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, মাত্র ১০ দিন আগে গত ১৫ আগস্টের নিয়মিত অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনেও এই গুদামের মজুত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সঠিক দেখানো হয়েছিল, যা গুদাম কর্মকর্তাদের পরিকল্পিত জালিয়াতি এবং চুরির ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
এই বড় ধরনের অনিয়মের বিষয়ে জানতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস জানিয়েছে, একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া মেনে গুদামটি পুনরায় চালু করা হবে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















