মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক সরকারি নিয়োগ বা অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত কাজ করে আসছেন দুই কর্মী। এই চাঞ্চল্যকর ও অনিয়মের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর জেলাজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আজ সকালে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাগর হোসেন ও মিতু মনি নামের দুই ব্যক্তি কোনো ধরনের বৈধ নিয়োগপত্র ছাড়াই হাসপাতালের অত্যন্ত সংবেদনশীল প্যাথলজি বিভাগে ল্যাব টেকনিশিয়ান ও সহকারীর সমতুল্য দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সরকারি বেতন বা ভাতার আওতায় না থাকলেও প্রতিদিন অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতোই তাঁরা ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগীদের রিপোর্ট তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতেন।
এই প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. মৃদুল কুমার সাহা ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর দাবি, বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট চলায় কাজের চাপ সামলাতে বাধ্য হয়েই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই দুই কর্মীকে দিয়ে ল্যাবের কাজ চালিয়ে নিচ্ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক কোনো নিয়ম না মেনে এভাবে বছরের পর বছর সরকারি হাসপাতালে লোক খাটানোর বিষয়টি আইনসম্মত নয় বলেও তিনি স্বীকার করেন।
মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের মতো সংবেদনশীল জায়গায় সরকারি অনুমোদনহীন ব্যক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্ট তৈরি নিয়ে রোগীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি হাসপাতাল প্রশাসনের নজরে আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















