মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহের জেরে এক পোশাক শ্রমিককে তাঁর স্ত্রী নিজ ঘরে ধারালো ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত পোশাক শ্রমিকের নাম রাশেদুল ইসলাম (৩৮)। তিনি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। রাশেদুল সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার ‘এসকেএইচ গার্মেন্টস’-এ স্যাম্পল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত স্ত্রী হাসনা আক্তার (৩২) নিজেও একটি পোশাক কারখানার মেশিন অপারেটর। তাঁরা দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ধল্লা এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে রাশেদুলের সাথে অন্য কোনো নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ আসছিলেন তাঁর স্ত্রী হাসনা। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। আজ ভোরেও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাসনা বেগম ঘরে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রাশেদুলের পেটে ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করেন। ছুরির আঘাতে নিহতের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের ছেলে আবুল হাসান জানায়, ভোরে বাবার গোঙানি ও চিৎকার শুনে তার ঘুম ভেঙে যায়। সে গিয়ে দেখে বিছানায় বাবা রক্তে ভাসছেন এবং তার মা রক্তমাখা ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন।
নিহতের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে রুমাইয়া জানায়, তার মা কয়েকদিন আগেই আলমারিতে একটি নতুন ধারালো ছুরি লুকিয়ে রেখেছিলেন। ছুরি রাখার কারণ জানতে চাইলে মা তাকে বলেছিলেন, রুমাইয়ার আসন্ন জন্মদিনের কেক কাটার জন্য এটি আনা হয়েছে। পারিবারিক সূত্র ও পুলিশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত হাসনা বেগম তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঘরের ভেতরে ফেলেই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে সিংগাইর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং আলামত হিসেবে কিছু পোশাক উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক ঘাতক স্ত্রী হাসনা আক্তারকে দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















