১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
মানিকগঞ্জের ৫৭৪ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির ধুম, সাটুরিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে বালিয়াটি চিন্ময়ী সংঘ

মানিকগঞ্জের ৫৭৪ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, আকর্ষণ বাড়াচ্ছে বালিয়াটি চিন্ময়ী সংঘ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ জেলা জুড়ে এখন বইছে তুমুল উৎসবের আমেজ। দেবীকে বরণ করে নিতে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপগুলোতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। কাদামাটি, খড়, বাঁশ ও সুতলির প্রাথমিক কাজ শেষ করে মণ্ডপগুলোতে এখন চলছে রং-তুলির নিপুণ ছোঁয়া এবং অলংকরণ ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।

মানিকগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এবার জেলায় মোট ৫৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসায় মৃৎশিল্পী ও পূজা কমিটির সদস্যদের মাঝে এখন চরম ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে এবার সাটুরিয়া উপজেলায় ৮১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার মহোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সাটুরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বালিয়াটি ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির পাশে অবস্থিত ‘চিন্ময়ী সংঘ’। বালিয়াটি চিন্ময়ী সংঘের মণ্ডপে এবার প্রখ্যাত প্রতিমাশিল্পী শ্রী রাজন পাল তাঁর নিখুঁত ও শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় অপূর্ব এক দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছেন। রাজকীয় নির্মাণশৈলী এবং নিখুঁত রঙের কাজের কারণে বালিয়াটি চিন্ময়ী সংঘের প্রতিমাটি দেখতে ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। বালিয়াটি পূজা উদযাপন কমিটির একাংশের দাবি, এবার তাঁদের মণ্ডপের প্রতিমাই পুরো উপজেলায় অন্যতম সেরা ও আকর্ষণীয় হবে।

তথ্য অনুযায়ী, সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে বালিয়াতি ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশি ১৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া ধানকোড়ায় ১৪টি, সাটুরিয়ায় ১৩টি, দরগ্রামে ১২টি, তিল্লিতে ৯টি, বড়াইদে ৭টি, দিঘুলিয়ায় ৩টি, হরগজে ২টি এবং ফুকুরহাটি ইউনিয়নে ১টি মণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। উৎসব সফল করতে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামের সভাপতিত্বে সম্প্রতি এক প্রস্তুতিমূলক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিমাশিল্পীরা জানান, দিনরাত এক করে কাজ করায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কাজ গুছিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন দেবীকে মনের মতো করে ফুটিয়ে তুলতে অলংকার ও জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরানোর কাজ চলছে।

পূজা উৎসবকে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি মণ্ডপে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে যাচ্ছে। আর ঢাকের কাঠি বাজার আগেই কারিগরদের হাতের জাদুতে মানিকগঞ্জের মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর রূপ যেন জীবন্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে।


Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হরিরামপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ৪ জেলের ৭ দিনের কারাদণ্ড।

মানিকগঞ্জের ৫৭৪ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির ধুম, সাটুরিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে বালিয়াটি চিন্ময়ী সংঘ

মানিকগঞ্জের ৫৭৪ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, আকর্ষণ বাড়াচ্ছে বালিয়াটি চিন্ময়ী সংঘ

Update Time : ০৪:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ জেলা জুড়ে এখন বইছে তুমুল উৎসবের আমেজ। দেবীকে বরণ করে নিতে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপগুলোতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। কাদামাটি, খড়, বাঁশ ও সুতলির প্রাথমিক কাজ শেষ করে মণ্ডপগুলোতে এখন চলছে রং-তুলির নিপুণ ছোঁয়া এবং অলংকরণ ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।

মানিকগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এবার জেলায় মোট ৫৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসায় মৃৎশিল্পী ও পূজা কমিটির সদস্যদের মাঝে এখন চরম ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে এবার সাটুরিয়া উপজেলায় ৮১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার মহোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সাটুরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বালিয়াটি ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির পাশে অবস্থিত ‘চিন্ময়ী সংঘ’। বালিয়াটি চিন্ময়ী সংঘের মণ্ডপে এবার প্রখ্যাত প্রতিমাশিল্পী শ্রী রাজন পাল তাঁর নিখুঁত ও শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় অপূর্ব এক দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছেন। রাজকীয় নির্মাণশৈলী এবং নিখুঁত রঙের কাজের কারণে বালিয়াটি চিন্ময়ী সংঘের প্রতিমাটি দেখতে ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। বালিয়াটি পূজা উদযাপন কমিটির একাংশের দাবি, এবার তাঁদের মণ্ডপের প্রতিমাই পুরো উপজেলায় অন্যতম সেরা ও আকর্ষণীয় হবে।

তথ্য অনুযায়ী, সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে বালিয়াতি ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশি ১৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া ধানকোড়ায় ১৪টি, সাটুরিয়ায় ১৩টি, দরগ্রামে ১২টি, তিল্লিতে ৯টি, বড়াইদে ৭টি, দিঘুলিয়ায় ৩টি, হরগজে ২টি এবং ফুকুরহাটি ইউনিয়নে ১টি মণ্ডপে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। উৎসব সফল করতে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামের সভাপতিত্বে সম্প্রতি এক প্রস্তুতিমূলক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিমাশিল্পীরা জানান, দিনরাত এক করে কাজ করায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কাজ গুছিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন দেবীকে মনের মতো করে ফুটিয়ে তুলতে অলংকার ও জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরানোর কাজ চলছে।

পূজা উৎসবকে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি মণ্ডপে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে যাচ্ছে। আর ঢাকের কাঠি বাজার আগেই কারিগরদের হাতের জাদুতে মানিকগঞ্জের মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর রূপ যেন জীবন্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে।