আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে মানিকগঞ্জ জেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। প্রতিমা তৈরিতে মৃৎশিল্পীদের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা এবং প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে জেলায় দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ বছর মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলায় সর্বমোট ৫৮০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
পূজা উৎসব সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলাজুড়ে নিশ্চিত করা হয়েছে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মণ্ডপগুলোর সার্বিক সুরক্ষায় পুলিশ, আনসার ও র্যাবের পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে নিয়োজিত থাকবে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে সারা দেশের মতো মানিকগঞ্জের মণ্ডপগুলোকেও ২৪ ঘণ্টা কেন্দ্রীয় মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা হচ্ছে।
এদিকে ঘিওরের নেগরিকান্দিসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার পালপাড়া ও মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। খড়, বাঁশ ও কাঁদা-মাটির প্রাথমিক কাজ শেষে কারিগররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রং ও তুলির নিখুঁত আঁচড় দিতে। আয়োজকরা আশা করছেন আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই দেবীকে মণ্ডপে বরণ করে নেওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।
উৎসব চলাকালীন মণ্ডপগুলোতে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপশি সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতে প্রতিটি মণ্ডপ কমিটিকে বিকল্প হিসেবে ২৪ ঘণ্টা জেনারেটর ও চার্জার লাইট প্রস্তুত রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এবার দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি বাড়িয়ে ৩ দিন করেছে। এর সাথে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় পূজারি ও দর্শনার্থীরা কার্যত ৫ দিনের দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। ফলে এবারের উৎসবে মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসন ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জে এবারও একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















