মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় একটি নবনির্মিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন উদ্বোধনের মাত্র ১০ মাসের মাথায় দেওয়ালে ও মেঝেতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে ভবনের এই নাজুক দশা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও উন্নত পরিবেশে পাঠদানের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই নতুন ভবনটি নির্মাণ করা হয়। মাত্র ১০ মাস আগে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ভবনের বিভিন্ন অংশের দেওয়ালে এবং মেঝেতে বড় বড় ফাটল দৃশ্যমান হতে শুরু করে, যা বর্তমানে আরও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ভবনের এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে তারা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছে এবং তদারকি কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় হয়ে আজ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এই বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ভবনে ফাটল ধরার বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবনের কাঠামোগত ত্রুটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















