০৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাবনার এক নারী মাদক কারবারিকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিল জনতা।

শিবালয়ে মাদক সরবরাহ করতে এসে ২ হাজার ইয়াবাসহ নারী আটক

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মাদক সরবরাহ করতে এসে দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ জাহানারা খাতুন নামে এক নারী মাদক কারবারি স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। পরে তাকে শিবালয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জমদুয়ারা গ্রামের একটি খেলার মাঠ সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটক জাহানারা খাতুন পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর গ্রামের মৃত সলেমানের স্ত্রী এবং বর্তমানে তিনি পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ গ্রামে বসবাস করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাহানারা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে জমদুয়ারা এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিলেন। শুক্রবার সকালে ওই গ্রামের মাদক কারবারে জড়িত হিসেবে পরিচিত ইন্না মিয়ার বাড়ির সামনে জাহানারাকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় তেওতা ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন মিলে তাকে হাতেনাতে আটক করেন এবং আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যান। পরে শিবালয় থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয়দের সামনে জাহানারার সাথে থাকা একটি ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয় এবং ব্যাগ থেকে ২০০ গ্রাম ওজনের মোট ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটকের পর উপস্থিত লোকজনের সামনে জাহানারা খাতুন স্বীকার করেন যে, তিনি মূলত ইন্না মিয়া নামের ওই স্থানীয় ব্যক্তির কাছে মাদকের চালান পৌঁছে দিতে এসেছিলেন। গত এক মাসে তিনি কয়েক দফায় ইন্না মিয়াকে এভাবে ইয়াবার বড় চালান সরবরাহ করেছেন বলেও জানান।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করে। আটককৃত নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই মাদক চালানের মূল ক্রেতা ইন্না মিয়াসহ স্থানীয় মাদক চক্রের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ঘিওর সিনিয়র মাদ্রাসার নতুন সভাপতি মাসুদ রানাকে কুস্তাবাসীর সংবর্ধনা

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাবনার এক নারী মাদক কারবারিকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিল জনতা।

শিবালয়ে মাদক সরবরাহ করতে এসে ২ হাজার ইয়াবাসহ নারী আটক

Update Time : ০৪:২৮:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মাদক সরবরাহ করতে এসে দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ জাহানারা খাতুন নামে এক নারী মাদক কারবারি স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। পরে তাকে শিবালয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জমদুয়ারা গ্রামের একটি খেলার মাঠ সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটক জাহানারা খাতুন পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর গ্রামের মৃত সলেমানের স্ত্রী এবং বর্তমানে তিনি পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ গ্রামে বসবাস করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাহানারা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে জমদুয়ারা এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিলেন। শুক্রবার সকালে ওই গ্রামের মাদক কারবারে জড়িত হিসেবে পরিচিত ইন্না মিয়ার বাড়ির সামনে জাহানারাকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় তেওতা ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন মিলে তাকে হাতেনাতে আটক করেন এবং আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যান। পরে শিবালয় থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয়দের সামনে জাহানারার সাথে থাকা একটি ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয় এবং ব্যাগ থেকে ২০০ গ্রাম ওজনের মোট ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটকের পর উপস্থিত লোকজনের সামনে জাহানারা খাতুন স্বীকার করেন যে, তিনি মূলত ইন্না মিয়া নামের ওই স্থানীয় ব্যক্তির কাছে মাদকের চালান পৌঁছে দিতে এসেছিলেন। গত এক মাসে তিনি কয়েক দফায় ইন্না মিয়াকে এভাবে ইয়াবার বড় চালান সরবরাহ করেছেন বলেও জানান।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করে। আটককৃত নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই মাদক চালানের মূল ক্রেতা ইন্না মিয়াসহ স্থানীয় মাদক চক্রের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।