মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার বহুল আলোচিত পোশাকশ্রমিক রাশেদুল ইসলাম (৩৮) হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি তাঁর স্ত্রী হাসনা আক্তারকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক থাকা হাসনাকে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ গ্রামের একটি বাড়ি থেকে আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মূল আলামত—রক্তমাখা ধারালো ছুরিটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রাশেদুল ইসলাম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার “এসকেএইচ গার্মেন্টস”-এ স্যাম্পল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৬ বছর আগে তিনি সিঙ্গাইরের ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে জমি কিনে নিজস্ব বাড়ি তৈরি করে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বেশ কিছু দিন ধরে পারিবারিক কলহ এবং পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে অসতর্ক অবস্থায় রাশেদুল ইসলামকে ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন হাসনা আক্তার। ছুরিকাঘাতে রাশেদুলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘর বাহির থেকে তালাবদ্ধ করে তিনি পালিয়ে যান। এই নির্মম ঘটনার পর নিহতের মামা মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে সিঙ্গাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই হাসনা আক্তার বিভিন্ন স্থানে গা-ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সর্বশেষ তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ গ্রামের এক নারীর বাড়িতে সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান। কোনো ধরনের প্রথাগত যোগাযোগ না রাখলেও জেলা পুলিশ ও সিঙ্গাইর থানার একটি বিশেষ দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে। সিঙ্গাইর থানার পুলিশের নেতৃত্বে সোমবার রাতে অরঙ্গবাদ গ্রামের ওই বাড়িতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে হাসনাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিঙ্গাইর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া হাসনা আক্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর স্বামীকে নিজে হাতে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো ছুরিটিও জব্দ করা হয়েছে। আজকে (১৩ অক্টোবর) দুপুরে আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় মানিকগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার পেছনের অন্য কোনো মোটিভ রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















