০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

দৌলতপুরে ১২ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে,ভাঙন ঠেকাতে ১৫০০ কোটির স্থায়ী প্রকল্প

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলা সংলগ্ন চরাঞ্চলে যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আজ ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙন কবলিত এলাকার স্থায়ী সুরক্ষায় প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার জিয়নেরপুর ইউনিয়নের বড় লাউতারা ও ছনপাড়া চরাঞ্চলে তীব্র স্রোতের কারণে নদীভাঙন সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে। আজ সকালের মধ্যেই যমুনার তীব্র গ্রাসে অন্তত ১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এই পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, যা চরের কৃষকদের চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলেছে।

নিঃস্ব হওয়া এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। আজ ক্ষতিগ্রস্থ ও গৃহহীন পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, চাল, ডাল ও নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়েছে। চরাঞ্চলের এই দুর্গতদের জন্য আরও বড় আকারের সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আজ সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা বড় লাউতারা ও ছনপাড়া এলাকার প্রায় ৭৮০ মিটার জুড়ে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে, যাতে ভাঙনের গতি কিছুটা ধীর করা যায়।

পাউবো কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেন যে, প্রতিবছর চরাঞ্চলের এই ভাঙন সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার একটি স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৌলতপুরসহ মানিকগঞ্জের নদী তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটবে।


Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

তীব্র ভাঙনে দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ-শেষ সম্বল ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা শতাধিক পরিবার।

উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

দৌলতপুরে ১২ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে,ভাঙন ঠেকাতে ১৫০০ কোটির স্থায়ী প্রকল্প

Update Time : ০৩:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলা সংলগ্ন চরাঞ্চলে যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। আজ ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙন কবলিত এলাকার স্থায়ী সুরক্ষায় প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার জিয়নেরপুর ইউনিয়নের বড় লাউতারা ও ছনপাড়া চরাঞ্চলে তীব্র স্রোতের কারণে নদীভাঙন সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে। আজ সকালের মধ্যেই যমুনার তীব্র গ্রাসে অন্তত ১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এই পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, যা চরের কৃষকদের চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলেছে।

নিঃস্ব হওয়া এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। আজ ক্ষতিগ্রস্থ ও গৃহহীন পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, চাল, ডাল ও নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছানোর কাজ শুরু হয়েছে। চরাঞ্চলের এই দুর্গতদের জন্য আরও বড় আকারের সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আজ সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা বড় লাউতারা ও ছনপাড়া এলাকার প্রায় ৭৮০ মিটার জুড়ে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে, যাতে ভাঙনের গতি কিছুটা ধীর করা যায়।

পাউবো কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেন যে, প্রতিবছর চরাঞ্চলের এই ভাঙন সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার একটি স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দৌলতপুরসহ মানিকগঞ্জের নদী তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটবে।