মানিকগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভেতরে থাকা একটি ফার্মেসিতে গভীর রাতে সাটার ভেঙে ওষুধ ও নগদ টাকা চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তবে চুরির পর চোর চক্রটি যে অভিনব কায়দা অবলম্বন করেছে, তা দেখে হতবাক স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুলিশ প্রশাসন। চুরির কাজ শেষ করে চোর চক্রটি ফার্মেসির পুরনো ভাঙা তালাটি সাথে করে নিয়ে যায় এবং সাটারে নিজেদের সঙ্গে করে আনা একটি নতুন তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অত্যন্ত নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গত রাতেও ফার্মেসি মালিক দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। গভীর রাতের কোনো এক সময় চোর চক্রটি হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে ফার্মেসির সাটারের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর ড্রয়ারে থাকা বিক্রির নগদ টাকা এবং কাউন্টারে থাকা বেশ কিছু মূল্যবান ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ব্যাগে ভরে নেয়। তবে যাওয়ার সময় চুরির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আড়াল করতে তারা সাটারে একটি নতুন তালা মেরে দেয়, যাতে সকাল বেলাতেও কেউ সহজে সন্দেহ না করতে পারে।
আজ সকালে ফার্মেসির মালিক প্রতিদিনের মতো যথাসময়ে দোকান খুলতে এসে দেখেন সাটারে অন্য একটি নতুন তালা লাগানো রয়েছে। প্রথমে তিনি ভাবেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা অন্য কেউ হয়তো ভুলবশত এটি লাগিয়েছে। কিন্তু তার কাছে থাকা চাবিতে সেই তালা না খোলায় সন্দেহ আরও বাড়ে। পরবর্তীতে বাজারের অন্যান্য লোকজন, ব্যবসায়ী এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে হাতুড়ি দিয়ে তালাটি ভাঙা হলে চুরির পুরো বিষয়টি সবার সামনে আসে। দোকানে প্রবেশ করে দেখা যায় ভেতরের ক্যাশ বাক্স ভাঙা এবং চারপাশ এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ হাসপাতালের ও আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে চোর চক্রটিকে শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত এলাকায় রাতে নিরাপত্তা প্রহরী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন অভিনব কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটলো, তা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রোগীদের স্বজনদের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্য ও নিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 














