যান্ত্রিক সভ্যতার ছোঁয়া আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানিকগঞ্জের ঘিওরে বসে থাকা প্রায় দুই শতাব্দি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাটটি এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। বর্ষা এলেই যেখানে একসময় ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহলে মুখরিত থাকত ঘিওর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ, সেখানে এখন বিরাজ করছে এক ধরনের শূন্যতা। চলতি মৌসুমে নদী-নালা ও চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত পানি না থাকা এবং গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগের অভাবনীয় অগ্রগতির কারণে ঐতিহ্যবাহী এই হাটে নৌকার চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
কারিগরেরা জানান, সাধারণত আষাঢ় থেকে আশ্বিন—এই চার মাস চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা থাকে ডিঙি বা কোসা নৌকা। ঘিওর হাটে কড়ই, রেইনট্রি ও চাম্বল কাঠের তৈরি বিভিন্ন আকারের মানসম্মত নৌকা মেলে, যার দাম আকারভেদে ২ হাজার থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে এবার ভরা বর্ষাতেও বিল ও চরাঞ্চলে পানি না থাকায় নৌকা কেনার মানুষ নেই বললেই চলে।

এদিকে কাঠের চড়া দাম এবং কারিগরদের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বাড়লেও, সেই তুলনায় নৌকার ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। ফলে বংশানুক্রমিকভাবে এই পেশার সাথে যুক্ত শত শত পরিবার এখন চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই কুটির শিল্পকে বাঁচাতে সরকারি ঋণ সহায়তা ও বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা না দিলে অচিরেই হারিয়ে যাবে মানিকগঞ্জের এই গৌরবময় ঐতিহ্য।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















