মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিজ বাসা থেকে সেলিনা আক্তার (৪০) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে আটটার দিকে সিংগাইর পৌর সদরের আঙ্গারিয়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সেলিনা আক্তার মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার রূপসা ওয়াহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলমও পেশায় একজন শিক্ষক।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করা হয়েছে। সেলিনা আক্তারের বড় বোন ও স্বজনদের অভিযোগ, তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতন চলছিল। তাঁদের দাবি, জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর সহযোগীরা সেলিনাকে হত্যা করে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্বামী জাহাঙ্গীর আলম এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী সেলিনা আক্তার অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে ঝগড়া করার পর অভিমান করে ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে ঘরের ভেতর ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সেলিনাকে ঝুলতে দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে সিংগাইর থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটিকে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) রিপোর্ট হাতে পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 















