মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মা নদীতে চলাচলকারী বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ বা শুল্ক আদায়কে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্তের ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় হারুকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমানসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। একই সাথে হামলাকারীরা তিনজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ট্রলারে তুলে নিয়ে গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের হরিণাঘাট সংলগ্ন মাঝ পদ্মায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে হরিণাঘাট সংলগ্ন যমুনা ও পদ্মার মোহনায় ইজারাদারের পক্ষে একটি ট্রলার বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায় করছিল। এ সময় আকস্মিকভাবে স্পিডবোটে করে হেলমেট পরিহিত ২৫ থেকে ৩০ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ফাঁকা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারা অতর্কিতে চার্জ আদায়কারী ট্রলারে উঠে রামদা, ছ্যাঁদা ও লোহার রড দিয়ে সেখানে থাকা লোকজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পিটাতে শুরু করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ট্রলারে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে এবং লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের তিনজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিজেদের স্পিডবোটে তুলে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হামলায় গুরুতর আহত ১১ জনের মধ্যে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান, ছাত্রদল নেতা রিয়াজুল ও জসিমসহ ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবজাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পদ্মা নদীতে মারামারি ও হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নদী এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 















