০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সাভারের আশুলিয়ায় ডিলার মোমেনার বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়া ও কার্ড ছাড়াই চাল সরানোর অভিযোগ।

আশুলিয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে অনিয়ম: ডিলার মোমেনার বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়া ও কার্ড ছাড়াই চাল সরানোর অভিযোগ

সাভার উপজেলার আশুলিয়ার বলিভদ্র বাজার অঞ্চলের মধুপুর, তাল টেকি ও বড় টেকি এলাকায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ওজনে কম দেওয়া, নির্ধারিত মূল্যের বিপরীতে অর্থ আদায়ের পর চালের পরিমাণে কারচুপি এবং বৈধ কার্ড ছাড়াই গোপনে চাল সরিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় ডিলার মোমেনা খাতুন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল পাওয়ার অধিকারী, যার মোট নির্ধারিত মূল্য ৪৫০ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, বলিভদ্র বাজার অঞ্চলের মধুপুর, তাল টিকি ও বড় টিকি এলাকার নির্দিষ্ট ডিলার পয়েন্টে কার্ডধারীদের কাছ থেকে পূর্ণ অর্থ আদায় করা হলেও তাদের পূর্ণ ৩০ কেজি চাল বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ওজনে কারচুপি করে গ্রাহকদের প্রতি দফায় মাত্র ২৫ থেকে ২৮ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে।

​এর পাশাপাশি, কোনো ধরনের বৈধ কার্ড বা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি না মেনে গাড়িযোগে ১০ বস্তা চাল গোপনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট ভিডিও ফুটেজ স্থানীয়দের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। হতদরিদ্র মানুষের প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপতৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

​সাংবাদিক ও স্থানীয়রা এসব অনিয়মের বিষয়ে ডিলার মোমেনা খাতুনের কাছে বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর প্রদান না করে আকস্মিকভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সংবাদকর্মীরা মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি পেশসুলভ কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো হুমকিমূলক ও অসহযোগিতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। এছাড়া সাধারণ উপকারভোগীদের সাথে ডিলারের লোকজনের অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে।

​দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নজরদারির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ডিলার মোমেনা খাতুন এ ধরনের অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঘটনার প্রামাণ্য দলিল, ভিডিও চিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যসহ ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ইতিমধ্যে উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং এর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অধিদপ্তরের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করে অভিযুক্ত ডিলার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকৃত হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষ যেন তাদের পূর্ণ সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হরিরামপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ৪ জেলের ৭ দিনের কারাদণ্ড।

সাভারের আশুলিয়ায় ডিলার মোমেনার বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়া ও কার্ড ছাড়াই চাল সরানোর অভিযোগ।

আশুলিয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে অনিয়ম: ডিলার মোমেনার বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়া ও কার্ড ছাড়াই চাল সরানোর অভিযোগ

Update Time : ০৭:০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সাভার উপজেলার আশুলিয়ার বলিভদ্র বাজার অঞ্চলের মধুপুর, তাল টেকি ও বড় টেকি এলাকায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ওজনে কম দেওয়া, নির্ধারিত মূল্যের বিপরীতে অর্থ আদায়ের পর চালের পরিমাণে কারচুপি এবং বৈধ কার্ড ছাড়াই গোপনে চাল সরিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় ডিলার মোমেনা খাতুন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল পাওয়ার অধিকারী, যার মোট নির্ধারিত মূল্য ৪৫০ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, বলিভদ্র বাজার অঞ্চলের মধুপুর, তাল টিকি ও বড় টিকি এলাকার নির্দিষ্ট ডিলার পয়েন্টে কার্ডধারীদের কাছ থেকে পূর্ণ অর্থ আদায় করা হলেও তাদের পূর্ণ ৩০ কেজি চাল বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ওজনে কারচুপি করে গ্রাহকদের প্রতি দফায় মাত্র ২৫ থেকে ২৮ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে।

​এর পাশাপাশি, কোনো ধরনের বৈধ কার্ড বা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি না মেনে গাড়িযোগে ১০ বস্তা চাল গোপনে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট ভিডিও ফুটেজ স্থানীয়দের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। হতদরিদ্র মানুষের প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপতৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

​সাংবাদিক ও স্থানীয়রা এসব অনিয়মের বিষয়ে ডিলার মোমেনা খাতুনের কাছে বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর প্রদান না করে আকস্মিকভাবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সংবাদকর্মীরা মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি পেশসুলভ কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো হুমকিমূলক ও অসহযোগিতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। এছাড়া সাধারণ উপকারভোগীদের সাথে ডিলারের লোকজনের অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে।

​দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নজরদারির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ডিলার মোমেনা খাতুন এ ধরনের অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঘটনার প্রামাণ্য দলিল, ভিডিও চিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যসহ ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ইতিমধ্যে উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন এবং এর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অধিদপ্তরের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করে অভিযুক্ত ডিলার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রকৃত হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষ যেন তাদের পূর্ণ সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।