১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, যত্রতত্র বাইক পার্কিং ও তীব্র নোংরামিতে চরম ভোগান্তিতে মানিকগঞ্জের রোগীরা

ঘিওরে সকাল ৯টাতেও মেলে না চিকিৎসকদের দেখা; নোংরা পরিবেশ ও যত্রতত্র বাইক পার্কিংয়ে রোগীদের চরম ভোগান্তি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা চরম অব্যবস্থাপনা, নিয়মহীনতা আর তীব্র নোংরামির আবর্তে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল ৮টার মধ্যে চিকিৎসকদের উপস্থিত থাকার কঠোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঘিওরে এই নিয়মের তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগীবিরূপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন, কারণ সকাল গড়িয়ে ৯টা পার হয়ে গেলেও হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৯টা বেজে যাওয়ার পরও সিংহভাগ চিকিৎসকের কক্ষগুলো শূন্য পড়ে থাকে এবং চেয়ারগুলো ফাঁকা থাকে। চিকিৎসকদের এই চরম দায়িত্বহীনতার কারণে সকাল থেকেই বহির্বিভাগে চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। ফলে শিশু ও বৃদ্ধসহ গুরুতর অসুস্থ রোগীরা হাসপাতালের বারান্দায় ও করিডোরে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন এবং সঠিক সময়ে সেবা না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

চিকিৎসকদের এই নিয়মিত অনুপস্থিতির পাশাপাশি হাসপাতালের করিডোর ও চলাচলের সাধারণ পথগুলোতে যত্রতত্র মোটরসাইকেল পার্কিং করে রাখার কারণে রোগীদের যাতায়াতে চরম বিঘ্ন ঘটছে। হাসপাতালের ভেতরে বা প্রবেশদ্বারের সামনে যেখানে-সেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটরসাইকেল রেখে দেওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগী, বিশেষ করে হুইলচেয়ার বা স্ট্রেচারে থাকা রোগীদের আনা-নেওয়া করতে প্রতিনিয়ত চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা নেওয়ার প্রধান পথগুলো এভাবে অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে হাসপাতালের ভেতরের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, যা রোগীদের সুস্থ হওয়ার বদলে আরও বেশি অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে। হাসপাতালের শৌচাগার ও হাত ধোয়ার বেসিনগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ ও জরাজীর্ণ। বেসিনগুলোতে বছরের পর বছর জমে থাকা কালো ময়লা, মরিচা এবং চরম নোংরা পরিস্থিতি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি চিকিৎসালয়। টয়লেটের নোংরা পরিবেশের কারণে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা পুরো হাসপাতালের বাতাসকে দূষিত করে তুলছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি, তদারকি এবং জবাবদিহিতার চরম অভাবেই চিকিৎসকদের মাঝে এই ধরনের ঢিলেঢালা ভাব, যত্রতত্র বাইক রাখার বিশৃঙ্খলা এবং হাসপাতালের ভেতরে এমন নারকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে সরকারি কড়া নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকদের নিয়মিত দেরিতে আসা, চলাচলের পথে বাইক পার্কিং এবং পরিচ্ছন্নতার এই বেহাল দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অনতিবিলম্বে ঘিওরের চিকিৎসাব্যবস্থা সচল করতে, হাসপাতালের ভেতরে বাইক পার্কিং বন্ধ করে চলাচলের পথ সুগম করতে এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হরিরামপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ৪ জেলের ৭ দিনের কারাদণ্ড।

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, যত্রতত্র বাইক পার্কিং ও তীব্র নোংরামিতে চরম ভোগান্তিতে মানিকগঞ্জের রোগীরা

ঘিওরে সকাল ৯টাতেও মেলে না চিকিৎসকদের দেখা; নোংরা পরিবেশ ও যত্রতত্র বাইক পার্কিংয়ে রোগীদের চরম ভোগান্তি

Update Time : ০৭:৪৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা চরম অব্যবস্থাপনা, নিয়মহীনতা আর তীব্র নোংরামির আবর্তে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল ৮টার মধ্যে চিকিৎসকদের উপস্থিত থাকার কঠোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঘিওরে এই নিয়মের তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগীবিরূপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন, কারণ সকাল গড়িয়ে ৯টা পার হয়ে গেলেও হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৯টা বেজে যাওয়ার পরও সিংহভাগ চিকিৎসকের কক্ষগুলো শূন্য পড়ে থাকে এবং চেয়ারগুলো ফাঁকা থাকে। চিকিৎসকদের এই চরম দায়িত্বহীনতার কারণে সকাল থেকেই বহির্বিভাগে চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। ফলে শিশু ও বৃদ্ধসহ গুরুতর অসুস্থ রোগীরা হাসপাতালের বারান্দায় ও করিডোরে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন এবং সঠিক সময়ে সেবা না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

চিকিৎসকদের এই নিয়মিত অনুপস্থিতির পাশাপাশি হাসপাতালের করিডোর ও চলাচলের সাধারণ পথগুলোতে যত্রতত্র মোটরসাইকেল পার্কিং করে রাখার কারণে রোগীদের যাতায়াতে চরম বিঘ্ন ঘটছে। হাসপাতালের ভেতরে বা প্রবেশদ্বারের সামনে যেখানে-সেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটরসাইকেল রেখে দেওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগী, বিশেষ করে হুইলচেয়ার বা স্ট্রেচারে থাকা রোগীদের আনা-নেওয়া করতে প্রতিনিয়ত চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা নেওয়ার প্রধান পথগুলো এভাবে অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে হাসপাতালের ভেতরের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, যা রোগীদের সুস্থ হওয়ার বদলে আরও বেশি অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে। হাসপাতালের শৌচাগার ও হাত ধোয়ার বেসিনগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ ও জরাজীর্ণ। বেসিনগুলোতে বছরের পর বছর জমে থাকা কালো ময়লা, মরিচা এবং চরম নোংরা পরিস্থিতি দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি চিকিৎসালয়। টয়লেটের নোংরা পরিবেশের কারণে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা পুরো হাসপাতালের বাতাসকে দূষিত করে তুলছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি, তদারকি এবং জবাবদিহিতার চরম অভাবেই চিকিৎসকদের মাঝে এই ধরনের ঢিলেঢালা ভাব, যত্রতত্র বাইক রাখার বিশৃঙ্খলা এবং হাসপাতালের ভেতরে এমন নারকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে সরকারি কড়া নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকদের নিয়মিত দেরিতে আসা, চলাচলের পথে বাইক পার্কিং এবং পরিচ্ছন্নতার এই বেহাল দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অনতিবিলম্বে ঘিওরের চিকিৎসাব্যবস্থা সচল করতে, হাসপাতালের ভেতরে বাইক পার্কিং বন্ধ করে চলাচলের পথ সুগম করতে এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।