মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় কাজের লোকের ছদ্মবেশ ধারণ করে কৌশলে বাড়িতে ঢুকে মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার চুরির মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ওই চতুর যুবকের নাম মোঃ আশরাফুল ইসলাম। তথ্য-প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে সুদূর গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার পূর্ব-ছাপড়হাটি গ্রাম থেকে তাকে চুরিকৃত মালামালসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় হরিরামপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল। গতকাল বিকেলে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসাইন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও সফল অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট হরিরামপুর থানার সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে সম্পূর্ণ অপরিচিত এই আশরাফুল ইসলাম এসে কাজের লোকের ছদ্মবেশে হাজির হন এবং একদিনের জন্য গৃহস্থালির কাজ নেন। বাড়ির লোকজন তাকে সহজ-সরল মনে করে বিশ্বাস করে ঘরের কাজে নিযুক্ত করেন। কিন্তু দিনশেষে পরিবারের সদস্যদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে আশরাফুল ঘরের আলমারি ভেঙে রফিকুল ইসলামের মেয়ের গচ্ছিত রাখা দামী স্বর্ণালঙ্কার লুট করে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন। ঘটনার পর বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চোরের বিরুদ্ধে হরিরামপুর থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি রুজু হওয়ার পরপরই হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে। ওসির নির্দেশনায় পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে জানতে পারে যে, সে চুরি করা মালামাল নিয়ে গাইবান্ধায় তার গ্রামের বাড়িতে আত্মগোপন করেছে। এরপর হরিরামপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে গিয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় সোমবার সকালে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আশরাফুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে ধরে ফেলে। এ সময় তার হেফাজত থেকে সুলতানপুর থেকে চুরি যাওয়া রফিকুল ইসলামের মেয়ের সমস্ত স্বর্ণালঙ্কারসহ খোয়া যাওয়া পূর্ণাঙ্গ মালামাল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন আজকের এই ঘটনার সত্যতা পুনর্ব্যক্ত করে জানান, কাজের লোকের ছদ্মবেশে চুরি করার এই ঘটনাটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে ঘটানো হয়েছিল। তবে পুলিশের দ্রুত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে আসামিকে মালামালসহ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশের অন্য প্রান্ত থেকে ধরা সম্ভব হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হচ্ছে। একই সাথে তিনি স্থানীয় সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বাসা-বাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কোনো নতুন কাজের লোক বা গৃহকর্মী নিয়োগ দেওয়ার আগে অবশ্যই তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), স্থায়ী ঠিকানা এবং জীবনবৃত্তান্ত যথাযথভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত, যাতে পরবর্তীতে এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধের মুখোমুখি হতে না হয়।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 





















