১১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
কালীগঙ্গার শাখা নদীতে বন্ধুদের সাথে গোসলে নেমে তলিয়ে যায় ১০ বছরের শিশু নাহিদ; ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের উদ্ধার।

সাটুরিয়ায় নদীতে গোসলে নেমে ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার পর নাহিদ ইসলাম (১০) নামের এক চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার তিল্লি এলাকার কালীগঙ্গা নদীর শাখা নদীতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল নদী থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাহিদ ইসলাম সাটুরিয়া উপজেলার পাড় তিল্লি এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় কাঠমিস্ত্রি ওয়াসিমের ছেলে। সে স্থানীয় তিল্লি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। শুক্রবার দুপুরে প্রচণ্ড গরমের মাঝে নাহিদ তার কয়েকজন সহপাঠী ও বন্ধুর সাথে বাড়ির কাছের কালীগঙ্গা নদীর শাখা নদীতে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে সে হঠাৎ পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়।

নাহিদ তলিয়ে যাওয়ার পর তার সাথে থাকা অন্য শিশুদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয়রা দীর্ঘক্ষণ নদীতে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সাটুরিয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে মানিকগঞ্জ সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দল নদীতে প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিবিড় অনুসন্ধান চালানোর পর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে তিল্লি ব্রিজের কাছ থেকে নাহিদের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

১০ বছর বয়সী শিশু নাহিদের এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে চলছে মাতম। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। সন্তান হারানোর এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো তিল্লি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রতিবেশীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সাঁতার না জানা এবং নদীর গভীরতা সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোট: সংবাদের সাথে ব্যবহৃত মূল ছবিটি একটি প্রতীকী ছবি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হরিরামপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ৪ জেলের ৭ দিনের কারাদণ্ড।

কালীগঙ্গার শাখা নদীতে বন্ধুদের সাথে গোসলে নেমে তলিয়ে যায় ১০ বছরের শিশু নাহিদ; ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের উদ্ধার।

সাটুরিয়ায় নদীতে গোসলে নেমে ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মৃত্যু

Update Time : ০৭:১৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার পর নাহিদ ইসলাম (১০) নামের এক চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার তিল্লি এলাকার কালীগঙ্গা নদীর শাখা নদীতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল নদী থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাহিদ ইসলাম সাটুরিয়া উপজেলার পাড় তিল্লি এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় কাঠমিস্ত্রি ওয়াসিমের ছেলে। সে স্থানীয় তিল্লি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। শুক্রবার দুপুরে প্রচণ্ড গরমের মাঝে নাহিদ তার কয়েকজন সহপাঠী ও বন্ধুর সাথে বাড়ির কাছের কালীগঙ্গা নদীর শাখা নদীতে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে সে হঠাৎ পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়।

নাহিদ তলিয়ে যাওয়ার পর তার সাথে থাকা অন্য শিশুদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয়রা দীর্ঘক্ষণ নদীতে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সাটুরিয়া থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে মানিকগঞ্জ সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধারকারী দল নদীতে প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিবিড় অনুসন্ধান চালানোর পর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে তিল্লি ব্রিজের কাছ থেকে নাহিদের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

১০ বছর বয়সী শিশু নাহিদের এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে চলছে মাতম। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। সন্তান হারানোর এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো তিল্লি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রতিবেশীরা শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সাঁতার না জানা এবং নদীর গভীরতা সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোট: সংবাদের সাথে ব্যবহৃত মূল ছবিটি একটি প্রতীকী ছবি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।