মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরাতে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে নানা অনিয়ম এবং লাইসেন্স জটিলতার কারণে দুইটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সম্পূর্ণ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও তিনটি নামী প্রতিষ্ঠানের প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিলগালা হওয়া প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—সিংগাইর বাসস্ট্যান্ড এলাকার সায়মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং শাহরাইল বাজারের শাহরাইল ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
অন্যদিকে প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইসলামিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খান ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং সিংগাইর ক্লিনিক।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে সঠিক নিয়ম না মেনে এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন সায়মা ও শাহরাইল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে লাইসেন্সের কোনো বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় এবং প্যাথলজি ল্যাবের পরিবেশ অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাব থাকায় তাদের প্যাথলজি বিভাগের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস গণমাধ্যমকে বলেন, “জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে এবং চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখতে জেলাজুড়ে আমাদের এই তদারকি শুরু হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান সরকারি নিয়ম ও লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই ধরণের আকস্মিক অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানকালে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাফসান রেজাসহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সিংগাইর থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে সিংগাইরের অন্যান্য বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাব মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্য বিভাগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 



















