০৩:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
চাপের মুখে টাকা ফেরত দিলেও মিলছে না রেহাই

সিংগাইর পৌরসভায় জালিয়াতি: টাকা ফেরত দিলেও পার পাচ্ছেন না নির্বাহী কর্মকর্তা

মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ইরানি আক্তারের ভুয়া মাস্টার রোলে ৬৮ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ফাঁসের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চাপের মুখে আত্মসাৎকৃত টাকা পৌরসভার রাজস্ব কোষাগারে ফেরত দেওয়া হলেও, কেবল টাকা ফেরত দিয়েই এবার পার পাচ্ছেন না অভিযুক্ত এই কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পৌর প্রশাসন।

বর্তমান সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক খায়রুন্নাহার পপির নির্দেশে অভিযুক্ত ইরানি আক্তারকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে তিনি কী লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং প্রশাসন তার জবাবে সন্তুষ্ট হয় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

টাকা চুরির এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কর নির্ধারক মো. সোলাইমান সিদ্দিকী প্রকাশ করেছেন যে, ইরানি আক্তার যে রেজিস্টার খাতাটিতে স্বাক্ষর করে টাকা নিয়েছিলেন, সেটি তিনি নিজের বাসায় নিয়ে গেছেন। বর্তমানে কর নির্ধারকের কাছে ওই রেজিস্টারের কোনো কপি না থাকায় তিনি তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন, তবে তার কাছে ওই খাতার একটি ফটোকপি সংরক্ষিত আছে।

পৌরসভার সাবেক প্রশাসক মো. কামরুল হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানি আক্তারের অর্থ আত্মসাতের রেকর্ড এটিই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি একই কায়দায় অর্থ লোপাট করে ধরা পড়েছিলেন এবং সেবারও টাকা ফেরত দিয়ে পার পেয়েছিলেন। বারবার একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটায় এবার আর বিষয়টি হালকাভাবে দেখছে না প্রশাসন।

পৌর প্রশাসক খায়রুন্নাহার পপি জানিয়েছেন, তিন কার্যদিবসের শোকজের প্রক্রিয়া শেষ হলে পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হরিরামপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ৪ জেলের ৭ দিনের কারাদণ্ড।

চাপের মুখে টাকা ফেরত দিলেও মিলছে না রেহাই

সিংগাইর পৌরসভায় জালিয়াতি: টাকা ফেরত দিলেও পার পাচ্ছেন না নির্বাহী কর্মকর্তা

Update Time : ১২:৫৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ইরানি আক্তারের ভুয়া মাস্টার রোলে ৬৮ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ফাঁসের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চাপের মুখে আত্মসাৎকৃত টাকা পৌরসভার রাজস্ব কোষাগারে ফেরত দেওয়া হলেও, কেবল টাকা ফেরত দিয়েই এবার পার পাচ্ছেন না অভিযুক্ত এই কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পৌর প্রশাসন।

বর্তমান সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক খায়রুন্নাহার পপির নির্দেশে অভিযুক্ত ইরানি আক্তারকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে তিনি কী লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং প্রশাসন তার জবাবে সন্তুষ্ট হয় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

টাকা চুরির এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কর নির্ধারক মো. সোলাইমান সিদ্দিকী প্রকাশ করেছেন যে, ইরানি আক্তার যে রেজিস্টার খাতাটিতে স্বাক্ষর করে টাকা নিয়েছিলেন, সেটি তিনি নিজের বাসায় নিয়ে গেছেন। বর্তমানে কর নির্ধারকের কাছে ওই রেজিস্টারের কোনো কপি না থাকায় তিনি তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন, তবে তার কাছে ওই খাতার একটি ফটোকপি সংরক্ষিত আছে।

পৌরসভার সাবেক প্রশাসক মো. কামরুল হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানি আক্তারের অর্থ আত্মসাতের রেকর্ড এটিই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি একই কায়দায় অর্থ লোপাট করে ধরা পড়েছিলেন এবং সেবারও টাকা ফেরত দিয়ে পার পেয়েছিলেন। বারবার একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটায় এবার আর বিষয়টি হালকাভাবে দেখছে না প্রশাসন।

পৌর প্রশাসক খায়রুন্নাহার পপি জানিয়েছেন, তিন কার্যদিবসের শোকজের প্রক্রিয়া শেষ হলে পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।