মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বহুল আলোচিত রিকশাচালক ইদ্রিস আলী হত্যা মামলার প্রধান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সেলিনা আক্তারকে (৩৫) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের জেরে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৪ বছর পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন তিনি।
গত ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে হরিরামপুর থানা পুলিশ। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সেলিনা আক্তার হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের কদমতলা কামারঘোনা গ্রামের জনাব আলীর মেয়ে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর হরিরামপুর উপজেলার কদমতলি গ্রামে রিকশাচালক ইদ্রিস আলীকে খুন করা হয়। নিহত ইদ্রিসের স্ত্রী সেলিনা আক্তারের সাথে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের বাধা দেওয়ায় স্বামী ইদ্রিস আলীকে প্রথমে গলায় নাইলনের রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা এবং পরে নৃশংসভাবে জবাই করা হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহতের মা কোমেলা বেগম বাদী হয়ে হরিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সেলিনা আক্তার ও তার প্রেমিক নজরুল ইসলাম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। সেলিনা প্রথমে নিজের পরিচয় গোপন করে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) চাকরি নেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তিনি ছদ্মবেশে দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং দীর্ঘ দিন সেখানে আত্মগোপনে থাকেন। কিছু দিন আগে তিনি পুনরায় গোপনেই দেশে ফিরে আসেন এবং সাভার এলাকায় গা-ঢাকা দেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত আসামিদের অনুপস্থিতিতে সেলিনা আক্তার ও নজরুল ইসলাম উভয়কেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেলিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতিমধ্যেই তাকে আদালতের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই মামলার অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নজরুল ইসলামকেও ২০২২ সালে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। সেলিনা আক্তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর আলোচিত এই রিকশাচালক হত্যাকাণ্ডের দুই ফাঁসির আসামিকেই শেষ পর্যন্ত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 
















