০৪:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ফায়ার সার্ভিসের সামনেই সরকারি বনের গাছ পাচার

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সরকারি বনের গাছ কেটে বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে বন বিভাগের এক কর্মচারীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সামনের বনাঞ্চল এলাকায় প্রকাশ্যে গাছ কাটার কার্যক্রম চলছে। দুপুরের দিকে ওই এলাকা থেকে চোরাই কাঠ বোঝাই একটি যানবাহন মূল সড়কে বের হতে দেখা যায়। পরে গাড়ির চালকের সঙ্গে কথা বললে তিনি দাবি করেন, বন বিভাগের কর্মচারী কার্তিক দাশের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব গাছ বিক্রি করা হচ্ছে।

চালকের ভাষ্যমতে, বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সরকারি বনের মূল্যবান গাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চোরাই কাঠ বহনকারী যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পেয়ে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বনকর্মী কার্তিক দাশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বনাঞ্চলের গাছ কেটে বিক্রি করছেন। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিতভাবে সরকারি বন উজাড় করছে। এতে বনভূমির আয়তন কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যাদের দায়িত্ব বন রক্ষা করা, তারাই যদি বন ধ্বংসে জড়িত থাকে তাহলে বনাঞ্চল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই এলাকার বনভূমি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, সরকারি বনের গাছ কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বন রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি বনভূমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

হরিরামপুরে সুতালড়ী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থী- মোঃ হান্নান মোল্লা।

ফায়ার সার্ভিসের সামনেই সরকারি বনের গাছ পাচার

Update Time : ০৮:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সরকারি বনের গাছ কেটে বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে বন বিভাগের এক কর্মচারীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সামনের বনাঞ্চল এলাকায় প্রকাশ্যে গাছ কাটার কার্যক্রম চলছে। দুপুরের দিকে ওই এলাকা থেকে চোরাই কাঠ বোঝাই একটি যানবাহন মূল সড়কে বের হতে দেখা যায়। পরে গাড়ির চালকের সঙ্গে কথা বললে তিনি দাবি করেন, বন বিভাগের কর্মচারী কার্তিক দাশের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব গাছ বিক্রি করা হচ্ছে।

চালকের ভাষ্যমতে, বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সরকারি বনের মূল্যবান গাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চোরাই কাঠ বহনকারী যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ পেয়ে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বনকর্মী কার্তিক দাশ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বনাঞ্চলের গাছ কেটে বিক্রি করছেন। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিতভাবে সরকারি বন উজাড় করছে। এতে বনভূমির আয়তন কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যাদের দায়িত্ব বন রক্ষা করা, তারাই যদি বন ধ্বংসে জড়িত থাকে তাহলে বনাঞ্চল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই এলাকার বনভূমি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, সরকারি বনের গাছ কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বন রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি বনভূমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।