মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় গভীর রাতে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় এক যুবকের শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই যুবকের মুখমণ্ডল, পেট ও দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় ভুক্তভোগীর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
অ্যাসিড হামলার শিকার যুবকের নাম মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি সাটুরিয়া উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মৃত দাউদ আলীর ছেলে। এই ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সাটুরিয়া থানায় ভুক্তভোগী মাসুদ নিজেই বাদী হয়ে চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযুক্তরা হলেন— মাসুদের প্রাক্তন স্ত্রী মিলি বেগম, স্থানীয় বাসিন্দা সোবহান, ওসমান ও লিটন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে প্রচণ্ড গরমের কারণে মাসুদ তার শয়নকক্ষের জানালা খুলে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে দুর্বৃত্তরা ওই খোলা জানালার গ্রিল দিয়ে মাসুদের শরীর লক্ষ্য করে অ্যাসিডজাতীয় তরল পদার্থ নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। হঠাৎ মাসুদের বিকট চিৎকার শুনে পাশের ঘরে থাকা পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ছুটে আসেন। তারা এসে দেখতে পান মাসুদের পরনের কাপড় পুড়ে গেছে এবং শরীরের চামড়া ঝলসে গিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং সবার সহযোগিতায় মাসুদকে উদ্ধার করে প্রথমে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে ক্ষত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী মাসুদ অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে তার প্রাক্তন স্ত্রী মিলি বেগমের যোগসাজশে সোবহান, ওসমান ও লিটন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। এর আগেও তারা তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল।
সাটুরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিযুষ পাল, স্টাফ রিপোর্টার 















