“জলবায়ু ন্যায্য বিচার চাই, ধরিত্রী রক্ষার বিকল্প নাই”এই প্রতিপ্রাদ্য শ্লোগান কে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার ভাড়ারিয়ার কলাশী গ্রামে কৃষক, ইউপি সদস্য, শিক্ষক, সমাজ সেবক, পরিবেশ উদ্যোক্তা ও বারসিক কর্মীদের অংশগ্রহনে জলবায়ু পরিবর্তনে সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও করণীয় বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা মমতাজ বেগম।
কৃষকরা বলেন,আমরা এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। কৃষিতে জলবায়ু সমস্যাগুলো হলো-আমাদের বাংলাদেশে ছয় ঋতু আর দেখা যায় না। গরমের সময় তাপমাত্রা বেশী ফলে চাষাবাদে উৎপাদন কম হয়। ফলে কাউন, তিশি, গুজিতিল, কুসুমফুল আর মাঠে দেখা যায় না। অতিমাত্রায় তাপের ফলে মাটি আদ্রতা থাকে না। হঠাৎ অতি বৃষ্টির ফলে মাটিতে জু আসতে দেরী হয়। ফলে আবাদ দেরী হয়। আবার জমিতে বীজ বপন করলে বৃষ্টির পানি জমা হয়ে বীজ নষ্ট হয়ে যায়। শীতে কুয়ার কারণে পোকার আক্রমন বেশী। অতিমাতায় রাসায়নিক সার ও বিষ ব্যবহার মাটিসহ বীজবৈচিত্র্য হুমকীর মুখে, মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও বেশী উৎপাদনের আশায় বীজবৈচিত্র্য কমছে। হাইব্রিড চাষাবাদ বাড়ছে।
আমরা আমাদের কৃষিকে রক্ষা করতে চাই। আমরা আমাদের কৃষিতে সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সম্পদ ব্যবহারই যথেষ্ট। আমরা কৃষকগণ খুব বেশী কোম্পানীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। আমরা আমাদের এই পর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে, স্ব-নির্ভর হতে চাই। স্বাধীনভাবে কৃষি কাজ করতে চাই। আমাদের চাষযোগ্য মাটির সুরক্ষায় জৈবসার ব্যবহার, বীজ বৈচিত্র্য ও মাটির ধরন অনুযায়ী চাষাবাদ করতে চাই। আমাদের কৃষি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা করতে চাই। দেশীয় ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে মাটি পানির সুরক্ষা হবে।
আমাদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে স্থায়িত্বশীল কৃষি চর্চার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা করতে চাই। জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষিতে সমস্যা মোকাবেলাই মাটির ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শষ্য চাষ আমাদের শক্তি বাড়বে। আমাদের উদ্যোগ পথ প্রদর্শক হিসাবে কাজ করবে। আমরা আমাদের নিজ গ্রামকে দায়িত্ব নিয়ে পরিবেশ উপযোগী স্বনির্ভর গ্রাম হিসাবে গড়তে চাই।
মোহাম্মদ আলী,স্টাফ রিপোর্টার। 











