মানিকগঞ্জে ভয়াবহ প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে পোষ্য কোটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ দখলের অভিযোগ উঠেছে কল্পনা বর্মন নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাকে প্রশাসনের গাফিলতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির নগ্ন প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘিওর উপজেলার কুস্তা পশ্চিম পাড়া এলাকার সুশীল চন্দ্র মালোর মেয়ে কল্পনা বর্মন বিয়ের পরও নিজেকে ‘অবিবাহিত’ দেখিয়ে পোষ্য সনদ সংগ্রহ করেন। সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে সিংগাইর উপজেলায় বিয়ে হলেও তিনি গোপনে অবিবাহিত পরিচয় ব্যবহার করেন এবং ঘিওর সদর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান আলাই ও উপজেলা শিক্ষা দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় পোষ্য সনদ সংগ্রহ করেন।
অভিযোগ রয়েছে—বছরের পর বছর তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভুয়া তথ্য দিয়ে আবেদন করে আসেন। অবশেষে ২০১৬ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অথচ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী বিবাহিত পুত্র বা কন্যা কখনোই পোষ্য সনদের যোগ্য নন। অর্থাৎ নিয়ম-কানুনকে তাচ্ছিল্য করে প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি চাকরি আত্মসাৎ করেন তিনি।
স্থানীয় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ক্ষমতার ছত্রছায়ায় প্রতারণা করে চাকরি নেওয়ার ফলে অসংখ্য যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। এতে শিক্ষার মান ভেঙে পড়ছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধ হবে না।”
তারা আরও জানান, পোষ্য কোটা নিয়ে এমন প্রকাশ্য জালিয়াতি দুর্নীতির আরও গভীর শেকড়ের ইঙ্গিত দেয়।
“রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণেই কল্পনা বর্মনের মতো অযোগ্য ব্যক্তি শিক্ষকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ঢুকে পড়ছে”— বলেন একাধিক ক্ষুব্ধ নাগরিক।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—জালিয়াতির এমন স্পর্শকাতর অভিযোগ এতদিন শিক্ষা দপ্তরের অজানা রইল কীভাবে? প্রশাসন কি ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বুঁজে ছিল?
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কল্পনা বর্মন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, *“আমার ব্যক্তিগত বিষয় কাউকে বলবো না”—*এ কথা বলেই ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার পারভিন বলেন, “প্রতারণার মাধ্যমে পোষ্য কোটায় চাকরি নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্টাফ রিপোর্টার : 













